EN ☀️
×

Follow Us

অন্যান্য

নিজের কষ্ট হাসির মধ্যে লুকিয়ে রাখেন?

মুখোশের আড়ালে এক নীরব সংগ্রাম

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৯ পিএম

নিজের কষ্ট হাসির মধ্যে লুকিয়ে রাখেন?

হাসির আড়ালে জমে থাকা একরাশ বিষণ্ণতা। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

আমরা প্রায়শই এমন কিছু মানুষকে দেখি যাদের উপস্থিতি মানেই প্রাণবন্ততা, হাসি আর ফুরফুরে মেজাজ। তারা যেন অন্যের মন ভালো রাখার জন্যই জন্মেছেন।

কিন্তু এই ঝলমলে হাসির আড়ালে কি সবসময়ই আনন্দ লুকিয়ে থাকে? বহু মানুষ তাদের জীবনের গভীরতম দুঃখ, হতাশা, ট্রমা বা তীব্র কষ্টকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে একটি ‘মাস্ক’ ব্যবহার করেন, আর সেই মাস্কটি হলো হাসি। এই হাসি বাইরের পৃথিবীকে বোঝায় যে, ‘সবকিছু ঠিক আছে’, অথচ ভেতরের ঘরে জমে থাকে একরাশ নীরব কান্না।

নিজের কষ্ট হাসির মধ্যে লুকিয়ে রাখা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি এক প্রকার আত্ম-সুরক্ষার কৌশল। এই মানুষগুলো সাধারণত বেশ কয়েকটি কারণে নিজেদের আসল অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পান। প্রথমত, তারা মনে করেন তাদের কষ্ট কেউ বুঝবে না, বরং দুর্বলতা হিসেবে বিচার করবে। দ্বিতীয়ত, অনেকে বারবার আঘাত পেয়ে শিখে গেছেন যে, মুখ বুজে থাকাটাই নিরাপদ। তৃতীয়ত, তারা নিজেদের বোঝা অন্যের কাঁধে চাপাতে দ্বিধা করেন- তাই সব কষ্ট একাই হজম করতে থাকেন। বাইরে তারা সমাজের চোখে একজন ‘শক্তিশালী’ মানুষ হিসেবে টিকে থাকার কঠিন লড়াই চালিয়ে যান।

যারা সবসময় হাসি-খুশি থাকেন, তারা প্রায়শই ভেতরে একাকীত্বে ভোগেন। তাদের এই হাসি আসলে এক নিরলস যুদ্ধের প্রমাণ- ভেঙে না পড়ে, কষ্ট সত্ত্বেও টিকে থাকার সংগ্রাম। বাইরে তারা সবার মন ভালো রাখেন, কথা বলেন, সমাজকে সঙ্গ দেন; কিন্তু দিন শেষে নিজের কষ্ট একা বহন করেন, একাই যুদ্ধ করেন। এই মানুষগুলো আসলে এক নীরব যোদ্ধা। তাদের চোখে কখনো কখনো যে অদেখা ক্লান্তি বা বিষণ্ণতার ছায়া দেখা যায়, তা হলো এই ভেতরের নিরন্তর সংগ্রামেরই বহিঃপ্রকাশ।

যদি আপনার আশেপাশে এমন কেউ থাকেন, যিনি সবসময় হাসছেন, কিন্তু তার চোখে গভীর ক্লান্তি- তবে একবার আন্তরিকভাবে তার খোঁজ নিন। কেবল জিজ্ঞেস করলেই হবে না, মন দিয়ে শুনতে প্রস্তুত থাকুন, কোনো বিচার না করে। হয়তো তিনি সহজে মুখ খুলবেন না, কিন্তু আপনার আন্তরিকতা তাকে ভরসা দিতে পারে। মনে রাখবেন, একটি আন্তরিক সহানুভূতি এবং আশ্বাস-  ‘আমি আছি তোমার পাশে’- কখনো কখনো কঠিন মানসিক সমস্যার সমাধানের থেকেও বেশি সান্ত্বনা দেয়। এই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

আরও পড়ুন