ভূ-রাজনীতি ও ক্ষমতার অবক্ষয়: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার সাতকাহন
মাসুদ আহাম্মদ সুবর্ন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
মাসুদ আহাম্মদ সুবর্ন
ইউরোপের দেশ সার্বিয়ার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬-এর সংসদ নির্বাচনে সারা বিশ্ব এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখল। ২০১৪ সাল থেকে কখনো প্রধানমন্ত্রী, কখনো রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী এবং ইতিমধ্যে 'নির্বাচনভিত্তিক কর্তৃত্ববাদ'-এর তকমায় অভিষিক্ত আলেকসান্দার ভুচিচের নেতৃত্বাধীন দল ও জোট হেরে গেল; আর ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা তরুণদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 'স্টুডেন্ট লিস্ট' এক ঐতিহাসিক জয় লাভ করল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার নোভি সাদ ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার ফলে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অপশাসনকে জনগণের সামনে উন্মোচিত করে। ছাত্ররা নিজেরা প্রার্থী না হয়ে রাজনীতিবিদদের বদলে শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজকর্মীদের মতো পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষকে প্রার্থী করায় সাধারণ মানুষ ভুচিচের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিকল্প হিসেবে এই নতুন জোটকে বেছে নেয়। এখন দেখার বিষয়, সার্বিয়া নতুন নেতৃত্বের হাতে কোথায় যায় আর কতদূর যায়।
ভূ-রাজনীতিতে এখন এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন অবস্থা বিরাজ করছে। এই অবস্থার একদিক জুড়ে রয়েছে বিচিত্র সব অস্থিরতা, অদ্ভুতুড়ে ঘটনা এবং কখনো আবার রঙহীন স্থবিরতা। অন্যদিকে যুদ্ধ ও গণ-আন্দোলনের তীব্রতায় থরে-বিথরে কাঁপছে আজকের পৃথিবীর নানা প্রান্ত। এই অস্থিরতার চাপে আমাদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির রাশি রাশি কথামালা আজ ম্রিয়মাণ ও ফ্যাকাশে। বিশ্বজুড়ে নানাবিধ সংকটের এমন ঘূর্ণিপাকে পড়ে হতবিহ্বল চোখে আমরাও যখন-তখন কেঁপে উঠছি। কখনো আবার আগ্নেয়াস্ত্রের সম্মুখে ওষ্ঠাগত হচ্ছে প্রাণ। দেখে মনে হচ্ছে, সমগ্র বিশ্ব যেন এক গভীর টানাপোড়েনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—কখনো এদিক দুলছে তো কখনো ওদিক। বিশ্বরাজনীতির এই নির্মম রূপ অবলোকন করে আজ সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেছে পক্ষ-বিপক্ষ-নিরপেক্ষ-স্বপক্ষ ভঙ্গির নানামুখী বিভাজ্যে। এমন মনস্তাত্ত্বিক বিভাজনের ভাঁজে ভাঁজে কোথাও নেতৃত্বের দৃঢ়তা দৃশ্যমান, আবার কোথাও তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী ভোগবাদী মনোভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে পদে পদে আজ ক্ষমতা, কর্তৃত্ব আর জিঘাংসার নগ্ন রূপ প্রকাশ পাচ্ছে। ফলে বিশ্বের দেশে দেশে আজ মানুষে মানুষে তৈরি হচ্ছে গভীর দূরত্ব ও অবিশ্বাস। এমন নেতিবাচক প্রবণতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষ বা কোনো না কোনো সম্প্রদায় চরম বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এক সম্প্রদায়ের বঞ্চনা যেন অন্য পক্ষের অন্যায্য লাভের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। বড় হয়ে উঠছে অর্থনৈতিক লুণ্ঠন!
অবশ্য এই সংকটের মাঝেও যে পৃথিবীর বস্তুগত উন্নয়ন একেবারেই থমকে গেছে, তা নয়। জাগতিক প্রয়োজনে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নিত্য-নতুন রূপ পাচ্ছে। অট্টালিকার পর অট্টালিকায় ভর করে শহর গড়ছে, গ্রামগুলোও শহরের আদল পাচ্ছে। নোবেলের মতো বিশ্বখ্যাত পুরস্কারও প্রতি বছর জুটছে প্রতিভাধর কোনো না কোনো বিজ্ঞানী। তবে এই বস্তুগত উন্নয়নের সমান্তরালে আস্থা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের দার্শনিক ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চারপাশের সবকিছুই যেন আজ বড্ড অনুভূতিহীন। সময়ের পরম্পরা বা জীবনদর্শনকে গুরুত্ব না দেওয়ায় আজ বিশ্বজুড়ে অসংখ্য অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে। তথ্যের ঘাটতি ও জটিলতার কারণে এসব ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা আজ বড্ড কঠিন। বর্তমান বিশ্বে দর্শনের ইতিবাচক অস্তিত্ব যেন আজ সংকটের মুখে। তবুও প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে এবং এটাই বর্তমানে আমাদের পরম বাস্তবতা। এই বাস্তবতায় কথার ফুলঝুরি হয়তো প্রচুর শোনা যায়, কিন্তু প্রকৃত আস্থা খুঁজে পাওয়া যায় না। সবকিছু যেন এক গভীর হতাশায় বিলীন হতে চলেছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিতে ‘নোবেল’ পুরস্কার পাওয়ার আকুতি এবং তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বৈপরীত্য আজ বেশ স্পষ্ট। সমালোচকদের মতে, অতীতে তাঁর ঘোষিত 'ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি' বা 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর নামে 'যুদ্ধবিরোধী' বা 'যুদ্ধ থামানোর কারিগর' হিসেবে শান্তির নামে একমুখী অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে ঢাকা, যা এক ধরণের বৈপরীত্য তৈরি করেছে ট্রাম্পের কথায় আর আচরণের কৌশলে। একইভাবে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের 'ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভূখণ্ড সম্প্রসারণের নীতি'র আড়ালে তাঁর সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন; যার বড় প্রমাণ ইউক্রেনের ক্রিমিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল দখল। অন্যদিকে, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুক্তিতে ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করার ফলে ফিলিস্তিনসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অঝোরে প্রাণ ঝরছে, রক্তপাত আর দ্বন্দ্ব বাড়চ্ছে দেশে দেশে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আগ্রাসী কৌশলের আড়ালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’কে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও ‘ঋণের ফাঁদ’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে বিশ্বজুড়ে। ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মৃত্যু পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার এক স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের বিরুদ্ধে ধর্মকে রাজনীতি ও সহিংসতায় ব্যবহারের পরোক্ষ নীতি এবং প্রক্সিবাহিনী তৈরি করে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘সর্বত্র গেরুয়াকরণ নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকরা। অন্যদিকে পাকিস্তান ও মিয়ানমারে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে সামরিক তন্ত্রের প্রবেশ এবং আফগানিস্তানে মোল্লাতন্ত্র স্ব স্ব দেশে তো বটেই, বিশ্বজুড়ে নিত্য-নতুন সংকটের জন্ম দিয়ে চলছে অনেকটা উদ্দেশ্যহীন ভাবে। বিশ্বরাজনীতির এই প্রভাবশালী নেতাদের অনেকের মধ্যেই মানসিক স্থিরতার প্রকট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের সংস্পর্শে এসে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এক উৎকট রূপ ধারণ করেছে। এই নেতাদের অনেকে নিজেদের আখের গোছানো, নিজেদের গোষ্ঠী ও তথাকথিত মতবাদ নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত। ফলে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট আজ মারাত্মকভাবে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।
২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু নেতার রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এসব নেতার আগ্রাসী মানসিকতার মূল বলি হচ্ছে একেবারেই প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের অনুসরণে অন্য দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যেও প্রায় একই ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। ফলে পৃথিবী এখন গভীর অস্থিরতা আর ঘনঘটায় আচ্ছন্ন। এই অস্থিরতা মানবজাতিকে ইতিবাচক কিছু দিচ্ছে না; বরং দিন দিন সমাজে গভীর নির্মমতা এবং মানুষ হত্যার মতো জঘন্য কার্যকলাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সার্বিক অবস্থা দেখে হিন্দু পুরাণের শ্রীকৃণের জন্মবৃত্তান্ত বা কংসবধের কাহিনীর কথা মনে পড়ে যায়। দ্বাপর যুগে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংস দ্বৈববাণী শুনতে পান যে, তাঁর বোন দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তাঁকে বধ করবে। এই ভয়ে কংস দেবকী ও বাসুদেবকে কারাগারে বন্দী করেন এবং একে একে তাঁদের প্রথম ছয়টি সন্তানকে হত্যা করেন। অষ্টম সন্তান হিসেবে কৃষ্ণ জন্ম নেওয়ার পর বাসুদেব তাঁকে গোপনে যমুনা নদী পার করে গোকুলে নন্দ ও যসোদার কাছে রেখে আসেন এবং তাঁদের সদ্যজাত কন্যাকে (যোগমায়া) মথুরায় নিয়ে আসেন। কংস সেই কন্যাকে পাথরে আছাড় মারতে গেলে সে দেবী যোগমায়ারূপে মহাশূন্যে ভেসে উঠে কংসকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, “তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে” এবং এই কথাটি বলেই তিনি অন্তর্ধান করেন।
সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে বিশ্বরাজনীতিতেও আজ মানবিকতার এমন অন্তর্ধান পর্ব চলছে। এই মানবিকতার সন্ধানে এখন ‘গোকুলে’ বা প্রান্তিক পর্যায়ে নানাভাবে প্রতিরোধ বাড়ছে। ফলে প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতাও বাড়ছে। আজ যে দেশকে সুস্থির মনে হচ্ছে, কালই সেই দেশ নেমে যাচ্ছে ‘মানছি না, মানব না’-র দলে। এই মানা-না-মানার সংস্কৃতি এখন অনেকটা অজানা রোগ-ব্যাধির ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতির এই অস্থির পরিস্থিতি আর রাষ্ট্রপ্রধানদের লাগামহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখে বারবার কংসের সেই পরিণতির কথাই মনে পড়ে। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার যত চেষ্টাই হোক না কেন, অত্যাচারীর পতনের বীজ যে অলক্ষ্যেই কোথাও না কোথাও অঙ্কুরিত হচ্ছে—সেটাই যেন আজকের নির্মম সত্য।
দর্শনের পরম্পরা ভুলে নিজের সময়েই অনেকে ভোল পাল্টিয়ে ফেলছেন। বাস্তবমুখী কিছু না করে শুধুমাত্র জটিলতা পাকিয়ে তথাকথিত দার্শনিক হওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। আবার ‘কাল্ট’ ধরনের আকাঙ্ক্ষায় নিজের মতাদর্শগত গোষ্ঠী সৃষ্টি কিংবা ক্ষমতার লোভে ‘অমর’ হবার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। স্তাবকদের তোল্লাই দেওয়ার কারণে আজ এক উদ্ভ্রান্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে—যা কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বেই নয়, অনেক ব্যক্তির মাঝেও দৃশ্যমান। এর ফলে সময় আর সুযোগের প্রতি আস্থা হারিয়ে মানুষ নিজের এবং অপরাপর জনজাতিগোষ্ঠীর প্রতি আবেগ বা ক্ষোভের বশে প্রকারান্তরে ধ্বংসই ডেকে আনছে। এমনই নতুন নতুন কূটকৌশল বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতির বুকে ক্রমাগত আঘাত করে চলছে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পারস্পরিক এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার যে রক্তাক্ত প্রকাশ ও প্রাণহানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা এক অলিখিত বিশ্বযুদ্ধের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই নতুন সংকট তৈরি করে বিশ্বের দেশে দেশে এখন প্রতিনিয়ত দাঙ্গা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে। হঠাৎই পরিচিত মুখ অপরিচিত হয়ে উঠছে, পরম বন্ধু রাষ্ট্র করছে চরম শত্রুর মতো আচরণ। স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক অস্থিরতার আড়ালে অন্যকে অসুবিধায় ফেলে নিজের সুবিধা নেওয়ার এক অবান্তর ও কদর্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে অস্থিরতার জোগান দেওয়া এবং অন্যদিকে তা নিরসনের পেছনে বিপুল অর্থ ঢালতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা আজ চরম সংকটে পড়েছে; যা অনেকের জীবনেই এক দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
এই অস্থিরতা আঘাত করছে দেশ ও সমাজের সর্বত্র। অন্যকে আঘাত করলে নিজেকেও যে আঘাত পেতে হয়, তা অস্থিরতা উৎপাদনকারী দেশগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে অস্থিরতা বাড়িয়ে সুস্থিরতা আনা এবং নিজেদের ক্ষমতার পরিধি অন্য দেশ বা অঞ্চলে প্রসারিত করার নীতি নিয়েছে ক্ষমতাশালী বেশ কিছু দেশ। আর এই অস্থির মানসিকতার চূড়ান্ত ফল ভোগ করতে হচ্ছে ঐ সব দেশের মানুষসহ আমাদের মতো দেশের একেবারেই প্রান্তিক মানুষকে—যাদের সাথে যুদ্ধের ন্যূনতম সম্পর্কটুকুও নেই। বলির পাঁঠার মতো অবস্থা হয়েছে আমাদের সকলের। মানুষের এমন নির্মমতার কারণে মানুষ ক্রমান্বয়ে নিজের পরিধি ছোট করে প্রায় এককেন্দ্রিক হয়ে মুক্তি