ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে সম্ভাবনার ভোর: নেতৃত্বে, রূপান্তরে স্বাবলম্বী এক বাংলাদেশ
মাহবুব নাহিদ
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ দেড় দশকের এক দীর্ঘ উপাখ্যান। এদেশের ইতিহাস অসহায়, করুণ চাহনিতে নীরবে সাক্ষী হয়েছে- কীভাবে এই লম্বা সময়টায় একটি জাতিকে তিলে তিলে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যে স্বৈরাচারের পুনর্বাসন হয়েছিল, সেই স্বৈরাচার কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লুণ্ঠন আর রাজনৈতিক নিপীড়ন চালিয়ে দেশকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে- তার সাক্ষী দেশের প্রতিটি মানুষ। ভোটাধিকার হরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করা, ভিন্নমতাবলম্বী মানুষদের গুম-খুন আর ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের ওপর মিথ্যা মামলার পাহাড় চাপিয়ে দেশজুড়ে তৈরি করা হয়েছিল এক অবরুদ্ধ পরিবেশ। সে পরিবেশ এমনই যেখানে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাধীনতাটুকুও ছিল না ভিন্নমতের মানুষদের।
এসব গল্প কম-বেশি সবারই জানা। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরোধী পক্ষের মানুষদের কেবল রাজনৈতিক অধিকারই যে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এমনটি নয়; বরং সাথে সাথে তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলা হয়েছিল দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিটাকেও। তবে সব নিপীড়ন, সব শোষণেরই একটা শেষ থাকে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের বুকে চলা এই নিপীড়নেরও শেষ দেখে ছেড়েছে এই দেশের জনগণ। স্বৈরাচারের ক্রমাগত নিষ্পেষণে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে যে রক্তস্নাত বিপ্লব এবং গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, সেটা শুধু দেশের শাসকবর্গের পটপরিবর্তন এনেছে এমনটি নয়। বরং ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থান বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে এক নতুন বাস্তবতা, যে বাস্তবতায় চাঁদের মায়াবী জ্যোৎস্নাটার মতোই বিস্তৃত। এটা আমাদের আত্মমর্যাদা, সেই আত্মমর্যাদাকে বুকে ধারণ করে নিজের মতো করে বেঁচে থাকা।
২০২৪ সালে এই দেশে নতুন সুবাতাস নেমে এসেছে ঠিক; কিন্তু মনে রাখতে হবে, দেড় দশক ধরে দেশের শেকড় থেকে মগডাল পর্যন্ত পচনও ধরেছিল। সেই পচনের অধ্যায় পেরিয়ে প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনে দেশ সাক্ষী হয়েছে আরেক প্রশাসনিক স্থবিরতার। সেই সাথে ধীরগতির সংস্কার জনমনে পুনরায় জমা করছিল সংশয়ের কালো মেঘ। এই যখন হলো দেশের হাল, তখনই এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে এ দেশটার হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। বিগত দিনের সমস্ত দুঃশাসন, সীমাহীন বঞ্চনা পেরিয়ে সহস্র ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমরা যে রাঙা ভোরের সন্ধান পেয়েছি, সেই ভোরই আমাদেরকে এনে দিয়েছে এক নতুন পথচলার ব্রত। সেখানে লুকিয়ে আছে মানুষের মন খুলে কথা বলতে না পারার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত যাতনা আর বুক জুড়ে বোঝা হয়ে থাকা বোবা কান্না। তাই এখানে সরকারের দায়িত্বটাও অনেক, অনেক বেশি। দেশের কোটি কোটি মানুষের চোখের জল, প্রার্থনা আর হাজারো ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে বাংলাদেশ যে বিজয় পেয়েছে, তা রক্ষায় সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা আজ ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্র আমানত। এ আমানতের খেয়ানত যেই করুক, নিঃসন্দেহে তা হবে বিশ্বাসঘাতকতা আর দুঃসাহসের নামান্তর।
এসব কিছুকে মাথায় রেখে তাই স্পষ্ট হওয়া উচিত দায়িত্ববোধ আর আমানত রক্ষার প্রতিশ্রুতিগুলো।
বিগত দিনগুলোতে তিলে তিলে তৈরি হওয়া পাহাড়সম অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জঞ্জাল নিয়ে যে পথচলাটা শুরু হয়েছে তা মোটেও সহজসাধ্য কোনো ব্যাপার নয়। তবে যে কাউকে একমত হতেই হবে, পরিবর্তনের জায়গাগুলো প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান। অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা সারা দেশজুড়ে যে ক্ষতগুলো রেখে গেছে, তার সবচেয়ে বড় ক্ষতটা রয়ে গেছে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডে। বলা যেতে পারে, সেই ক্ষত রূপ নিয়েছে মরণঘাতী ক্যান্সারে। বিভিন্ন গবেষণা আর নিরীক্ষা থেকে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতি বছর গড়ে ১২ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। সুদীর্ঘ প্রায় ১৫-১৬ বছরের শাসনে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার বা ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতির কোষাগার একরকম শূন্য করে ফেলা হয়েছে। এই লুটপাটের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে দেশের ব্যাংকিং খাত। স্বৈরাচারী শাসনামলে এদেশের ব্যাংকগুলো পরিণত হয়েছিল অলিগার্কদের পারিবারিক লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক- কোন কিছুই রেহাই পায়নি এই লুটপাট থেকে। দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে একটি বিশেষ চক্রই কেবল হাতিয়ে নিয়ে গেছে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। ব্যাংকিং খাতের আলাপ বাদ দিলেও লুটপাটের ফিরিস্তি শেষ হয়ে যায় না। যেমন- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪০ শতাংশ অর্থই আত্মসাৎ করা হয়েছে। তার ওপর কুইক রেন্টালের আড়ালে তথাকথিত ‘দায়মুক্তি আইন’ বানিয়ে এবং ভারতের আদানি গ্রুপের সাথে অসম চুক্তি সম্পাদন করে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় আয়োজনে লোপাট করা হয়েছে।
অর্থনীতির হালচাল যখন এরকম নাজুক, তখন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতকে পুনর্গঠন করা। কোনরকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর দেশের প্রভাবশালী কিছু চক্রকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের প্রায় সবটুকুই এখন খেলাপি। তবে যখন থেকে এই বিশাল অঙ্কের টাকাগুলো দেশের ব্যাংক খাত থেকে বের হয়ে গেছে, তখন থেকেই ব্যাংকগুলোতে দেখা দিয়েছে তারল্য ও মূলধনের চরম সংকট। এই সংকট দেশের লাখ লাখ আমানতকারীদের আস্থাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে। তবে কঠিন এই দুর্যোগপ্রবণ সময়টাতেও এক মুহূর্তের জন্য হাল ছাড়েনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। সকল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ সামলে বর্তমান সরকার বেশ দৃঢ়তার সাথেই এই গভীর আর্থিক ক্ষত সারিয়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং সেক্টরে কঠোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের আইনি জবাবদিহিতায় আনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় অর্থনীতির গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত সময়োপযোগী সংস্কার পদক্ষেপগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাদ দিলেও কিন্তু পরিবর্তনের এই আলাপ শেষ হয়ে যায় না।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথাই ধরুন। মানতে হবে, এখানেও এসেছে নানা গুণগত পরিবর্তন। দীর্ঘ ত্যাগের পর যে ক্ষমতার চেয়ারে বসা গেছে, তার অর্থ প্রতিশোধ নয়, হিংসা কিংবা প্রতিহিংসা নয়। এই ক্ষমতার অর্থ সমস্ত হিংসা-প্রতিহিংসার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ‘ডাউন টু আর্থ’ বা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়া। আর এই ডাউন টু আর্থ-এর রাজনৈতিক মডেলটাই প্রতিদিন একটু একটু করে গড়ে তুলছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। রাস্তাঘাট আটকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার যে কুখ্যাত ‘ভিআইপি কালচার’, স্পষ্টতই তার অবসান ঘটিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, দেশের প্রকৃত জনবান্ধব নেতৃত্বকে কেমন হতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই কাজগুলো কোন ফাঁকা বুলি বা ক্ষমতার দম্ভ নির্দেশ করে না, বরং খুব স্পষ্টভাবেই এখানে দেখা যায় কিভাবে নীতি-নির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে জনসেবাকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তবে সব কিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বের জায়গাটা হল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জনকল্যাণ।
রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জনকল্যাণের নিমিত্তে যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আধুনিক এবং মানবিক এক রাষ্ট্র গড়ার দিকে। খুব সংক্ষেপে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘ইম্প্যাক্টফুল’ কিছু পদক্ষেপের কথা না বললেই নয়। যেমন- প্রান্তিক মানুষের আর্থিক সুরক্ষা দিতে গৃহকর্ত্রীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সরাসরি কৃষকদেরকে সহযোগিতা করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে। জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা এবং এ খাতে চিরতরে দুর্নীতির ইতি টানতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ছাদভিত্তিক ও গ্রিডভিত্তিক সোলার এনার্জি বা নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর। এরপর নজর দেওয়া হয়েছে ঢাকার যানজট দূরীকরণের দিকে। এজন্য সমন্বিত পরিবহন ও বিকেন্দ্রীকরণ নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া খাতগুলোর একটি হচ্ছে শিক্ষাখাত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুখস্থবিদ্যার অন্ধকার গণ্ডি থেকে বের করে আইটি, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা নির্ভর করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য জামানতবিহীন স্টার্টআপ লোনেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে সম্মান ও সামঞ্জস্য। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনে ন্যায্যতা ও সাম্যতার ভিত্তিতে সার্বভৌম সীমান্ত ও জাতীয় স্বার্থকে তাই রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ স্থানে।
কিছু আগেই বলা হয়েছে, দেড় দশক ধরে দেশের শেকড় থেকে মগডাল পর্যন্ত পচন ধরেছে। এই পচন কোনভাবেই রাতারাতি সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র নামের বিশাল ইঞ্জিনের প্রতিটি যন্ত্রাংশকে ‘দলকানা কার্যনীতি’ থেকে বের করে পেশাদারিত্বের স্রোতে ফেরাতে কিছুটা সময় এবং পরম ধৈর্যের প্রয়োজন আছে- তা সে পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ কিংবা আর্থিক খাত যেখানেই হোক না কেন। দায়িত্বাধীন সরকারের চারপাশে রয়েছে অজস্র ভূ-রাজনৈতিক চাপ, রয়েছে নানাবিধ অভ্যন্তরীণ চাপও। তবে সব চাপ সামলেই দেশের প্রধান প্রধান খাতগুলোকে সচল রাখা হচ্ছে এবং সংস্কারের চাকাও কিন্তু সামনের দিকে গড়াচ্ছে। এসব কিছু সমস্ত হতাশাকে পেছনে ফেলে আমাদের মনে, দেশের মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করে।
দীর্ঘ স্বৈরশাসন এবং তার অবসানে গণঅভ্যুত্থানের পথ পেরিয়ে দেশ যে ঐতিহাসিক যাত্রার অভিমুখে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে আলো ছড়ানোর প্রধান শর্ত সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে অটুট জাতীয় ঐক্যের আহ্বান। সাধারণ মানুষ আর কোন শৃঙ্খলেই আবদ্ধ থাকতে চায় না, তারা চোখে-মুখে কিংবা হৃদয়ের গহীনে কোন ভয় পুষে নিয়েও দিনাতিপাত করতে চায় না। কোটি মানুষের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে অধিকার ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তা অনবরত আমাদের তাই স্বপ্ন দেখায়, দেখাতে থাকে। বাংলাদেশ হারবে না, বাংলাদেশ কখনো হারেনি। মানবিক, সুন্দর, বৈষম্যহীন আর স্বাবলম্বী দেশ গড়ার যে যাত্রা আজ শুরু হয়েছে, জনগণের সুদৃঢ় সমর্থন আর নেতৃত্বের দূরদর্শিতা নিয়ে সেই যাত্রা অবশ্যই একদিন বাংলাদেশকে পৌঁছে দেবে টেকসই সমৃদ্ধির পরম আকাঙ্খিত লক্ষ্যে।
ততদিন আমাদের সবার দায়িত্ব- হাতে হাত রাখা, একসাথে চলা।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক
