নতুন গবেষণায় সমৃদ্ধ হোক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ুক
এ কে এম মাহফুজুর রহমান
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
এ কে এম মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
একটি জাতির আসল সম্পদ তার প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতা নয়; সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জ্ঞান, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা। পৃথিবীতে যে রাষ্ট্র গবেষণাকে যত বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, সেই রাষ্ট্র বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতিতে তত বেশি উন্নত হয়েছে এবং বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। কেবল র্যাংকিংয়ে নাম উঠলেই হবে না, মান হতে হবে বিশ্বের সেরা গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে তুলনীয়। তবে পিয়ার রিভিউ, প্রতিষ্ঠান ও প্রকাশকদের নকল ও চুরির তথ্য এবং নৈতিকতা সম্পর্কে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে গবেষণার কোয়ালিটি ও প্রকৃত মান। এতে বিশ্বে দেশের সম্মান এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও গবেষকদের সম্মান, সমৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিদেশি ফান্ড ও স্কলারশিপও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের গবেষণা গত দশকে কিছুটা বেড়েছে। Scopus পরিসংখ্যানে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের গবেষকদের অংশগ্রহণে ১৫ হাজার ২৮টি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ছিল; ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪১৩টিতে। প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা প্রকাশনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। সংখ্যার হিসাবে এগোচ্ছি, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এর মান কতটুকু এবং গবেষণার কতটুকু আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করছে, কতটুকু দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে, সুনাম-সম্মান বয়ে এনেছে?
Nature Index-এর ১ মার্চ ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর তথ্যে, গবেষণা অবদানের ‘Share’ সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫৪তম এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ১৩তম। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে বাংলাদেশ ৪৪তম এবং সামাজিক বিজ্ঞানেও ৪৪তম। এই সময়ে Nature Index-এ বাংলাদেশের ১৪৩টি গবেষণা নিবন্ধ গণনা করা হয়েছে। সংখ্যাটি বিশাল নয়, কিন্তু এটি প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ, অবকাঠামো ও সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশের গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণা করার সক্ষমতা রয়েছে; তবে তা যথেষ্ট নয়।
QS World University Rankings 2026-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের ৫৮৪তম অবস্থানে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৭৬১–৭৭০ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৯৫১–১০০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে। THE World University Rankings 2026-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮০১–১০০০ ব্যান্ডে রয়েছে। আবার QS Subject Rankings 2026-এ Architecture and Built Environment বিষয়ে বুয়েট ২০১–২৬০ এবং Computer Science and Information Systems-এ বুয়েট ৪৫১–৫০০, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৫৫১–৬০০ ব্যান্ডে অবস্থান করেছে।
MIT, Oxford, National University of Singapore (NUS), Tsinghua কিংবা KAIST-এর সাফল্যের পেছনে একটি সাধারণ সূত্র রয়েছে। সেটা হলো, গবেষণাকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্বকার্য হিসেবে দেখে না; গবেষণাই তাদের অন্যতম প্রধান পরিচয়। ইউরোপের কিছু দেশ ডক্টর-অফ-ফিলোসফি ডিগ্রিকে সার্ভিস হিসেবেও গণ্য করে। Oxford-এর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে গবেষণা আয় ছিল ৮০১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড; এর মধ্যে শিল্পখাত থেকেই এসেছে ১৪২.২ মিলিয়ন পাউন্ড। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৭,৬০৪টি গবেষণা-সম্পর্কিত চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং ১৮৭টি সক্রিয় spinout company ছিল। অর্থাৎ, গবেষণাপত্র প্রকাশের পর তাদের কাজ শেষ হয় না; গবেষণা থেকে প্রযুক্তি, প্রযুক্তি থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য তৈরির একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর (NUS)-এর গবেষণা মডেলেও শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব, পেটেন্ট, লাইসেন্সিং এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। Tsinghua ও KAIST-এর মতো এশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্থানও আমাদের শেখায়, বিশ্বমানের গবেষণা পশ্চিমা বিশ্বের একচেটিয়া বিষয় নয়। দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, গবেষণা অবকাঠামো, মেধাবীদের ধরে রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারলে এশিয়ার দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুতই বৈশ্বিক গবেষণাশক্তিতে পরিণত হবে।
সম্প্রতি দেশেও গবেষণার অর্থায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থী ও নবীন গবেষকদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করেছে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গবেষণাকে যুক্ত করেছে। দেশের বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি নিজস্ব অর্থে শিক্ষকদের গবেষণা খাতে অর্থ প্রদান করছে, ব্র্যাক, আইইউবি, ইউআইইউ, ড্যাফোডিল, ইস্ট-ওয়েস্টসহ আরও কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিও তা শুরু করেছে। তবে শুধু অর্থ দিলেই গবেষণা বিশ্বমানের হবে না, গবেষণার সংস্কৃতি বদলাতে হবে।
গবেষণার বড় প্রশ্নটি হচ্ছে নৈতিকতার। অন্যের লেখা বা ধারণা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া, তথ্য চুরি, গবেষণার ফলাফল তৈরি বা বিকৃত করা, একই গবেষণা অনৈতিকভাবে একাধিক জায়গায় প্রকাশ করা কিংবা গবেষণা অনুদানের অপব্যবহার—এসবকে কোনোভাবেই ‘ছোটখাটো অ্যাকাডেমিক ভুল’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো জ্ঞানচর্চার ভিত্তির ওপর এবং দেশ, শিক্ষক, গবেষক ও আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের ওপর এক বিশাল ধ্বংসাত্মক আঘাত। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা ইচ্ছাকৃত তথ্য জালিয়াতি প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী প্রকাশনা প্রত্যাহার, গবেষণা সুবিধা স্থগিত, পদোন্নতি বা অ্যাকাডেমিক সুবিধা পুনর্মূল্যায়ন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিগ্রি বা সনদ প্রত্যাহার বা বাতিলের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কারণ গবেষকদের অসততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন করে। শাস্তির পাশাপাশি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর Research Ethics Committee, Institutional Review Board বা IRB, গবেষণা-ডেটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা, plagiarism detection, নিয়মিত research audit এবং গবেষণা নৈতিকতার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। দেশের বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটিতে এখন পর্যন্ত তা নেই।
গবেষণার মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন জরুরি। একজন শিক্ষক বছরে কতটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, এটাই তাঁর গবেষণার একমাত্র মানদণ্ড নয়। গবেষণাটি কোন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, বিষয় ও গুরুত্ব কতটুকু, অন্য গবেষকেরা সেটি ব্যবহার করছেন কি না, গবেষণা থেকে পেটেন্ট বা প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে কি না, শিল্প বা নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব কী, দেশ ও শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন—এসব বিবেচনায় নিতে হবে। H-index, citation impact, field-weighted citation impact, Q1/Q2 publication, patent, technology transfer এবং societal impact—বিভিন্ন সূচক সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আমাদের দেশের সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের দূরত্ব। তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষি, খাদ্য, চামড়া, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতে অসংখ্য বাস্তব সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যাই হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বিষয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গবেষণায় অর্থ দেবে, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও গবেষক দেবে, সরকার নীতিগত সহায়তা করবে—এই ত্রিমুখী অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার প্রয়োজন, অথচ কেউ নজর দিচ্ছে না। এটা দুঃখজনক।
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, গবেষণায় অংশীদার হিসেবে ভাবতে হবে। এখনো সরকারি পর্যায়ে বেসরকারি ইউনিভার্সিটিকে সুযোগ ও অর্থায়নের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এটা দুঃখজনক। ব্যয়বহুল electron microscope, mass spectrometer, NMR, DNA sequencer কিংবা high-performance computing facility প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে স্থাপন করা জরুরি নয়। জাতীয় গবেষণা অবকাঠামো নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য এসব সুবিধা ভাগাভাগির ব্যবস্থা করে কাজ করা সম্ভব।
বাংলাদেশের গবেষণা কার্যকর ও শক্তিশালী করার জন্য একটি সুস্পষ্ট জাতীয় কর্মপরিকল্পনা জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন। কম করে হলেও নিম্নের ১৩টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া খুবই জরুরি: (১) জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন কৌশল প্রণয়ন; (২) GDP-র অনুপাতে গবেষণা বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি; (৩) প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ গবেষণা অনুদান; (৪) বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শক্তিশালী research ethics system; plagiarism ও data fabrication-এর বিরুদ্ধে zero-tolerance; (৫) জাতীয় shared laboratory network; (৬) বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প যৌথ গবেষণা তহবিল; (৭) তরুণ গবেষকদের seed grant; PhD ও postdoctoral fellowship সম্প্রসারণ; (৮) আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি; (৯) মানসম্পন্ন জার্নাল প্রকাশে সহায়তা; (১০) patent ও technology-transfer office শক্তিশালীকরণ; (১১) গবেষণা মূল্যায়নে publication count-এর বদলে quality ও impact-কে গুরুত্ব দেওয়া; (১২) গবেষণা ডেটার নিরাপদ সংরক্ষণ ও open-science নীতি; (১৩) AI ব্যবহারে সুস্পষ্ট নৈতিক ও disclosure framework তৈরি।
AI গবেষণাকে দ্রুততর করতে পারে, কিন্তু গবেষকের সততা ও মৌলিক চিন্তার বিকল্প হতে পারে না। সাহিত্য অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রোগ্রামিং বা ভাষা সম্পাদনায় AI সহায়ক হতে পারে; কিন্তু কৃত্রিম তথ্য তৈরি, অন্যের চিন্তাকে নিজের বলে উপস্থাপন কিংবা AI-নির্ভর লেখাকে নিজের মৌলিক গবেষণা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী আছে, বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে, ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এখন দরকার গবেষণাকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।
একটি ভালো গবেষণা শুধু একটি প্রকাশিত প্রবন্ধ নয়। একটি গবেষণা থেকে নতুন ওষুধ তৈরি হতে পারে, কৃষকের উৎপাদন বাড়তে পারে, নদীদূষণের সমাধান বের হতে পারে, নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে, একটি রোগের চিকিৎসা সহজ হতে পারে কিংবা সরকারের একটি নীতি বদলে লক্ষ মানুষের জীবন উন্নত হতে পারে। গবেষণায় বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ। শিক্ষক গবেষণা করবেন সত্যের অনুসন্ধানে, শিক্ষার্থী শিখবে প্রশ্ন করতে, তরুণ গবেষক সাহস করবে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের সততা ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করবে। একই সঙ্গে যারা নকল, তথ্য চুরি ও জালিয়াতির মাধ্যমে গবেষণার পবিত্রতা নষ্ট করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানকে আপসহীন হতে হবে।
আমাদের দেশের গবেষণার মর্যাদা ফিরুক। গবেষকের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরুক। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এমন গবেষণা করুক, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে ‘Bangladesh’ লেখা থাকবে, তখন সেটি হবে গুণমান, সততা ও উদ্ভাবনের পরিচয়। কারণ একটা দেশের ভবিষ্যৎ শুধু সংসদে, সচিবালয়ে কিংবা শিল্পকারখানায় নির্মিত হয় না, তার একটা বড় অংশ নির্মিত হয় গবেষণাগারে, গ্রন্থাগারে, শ্রেণিকক্ষে এবং একজন সৎ গবেষকের নীরব অধ্যবসায়ে।
কলামিস্ট, সাবেক ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি
উপ-পরিচালক (ফ্যাকাল্টি এইচআর), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি