EN ☀️
×

Follow Us

মতামত

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই

প্রকৌশলী রুবেল আহম্মেদ

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই
অ অ

কারিগরি শিক্ষায় আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের দক্ষ কারিগর। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি শিক্ষায় যত এগিয়ে, সে জাতি তত উন্নত। তবে উন্নয়নের জন্য শুধু সনদনির্ভর বা তাত্ত্বিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়– প্রয়োজন বাস্তবমুখী, কর্মমুখী এবং হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের শিক্ষা। আর সেই প্রয়োজন পূরণ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এটি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা একজন শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কোনো পেশা বা বিষয়ে দক্ষ করে তোলে। তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মূল্যায়িত। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং- টিভিইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। 

একটি দেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে ওঠে তার কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা। উন্নত বিশ্বে ব্যবসা, প্রশাসন, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই কারিগরি শিক্ষার বিস্তৃত প্রয়োগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই শিক্ষার মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সমপর্যায়ের, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মূল স্লোগান– ‘কারিগরি শিক্ষা নিলে, বিশ্বজুড়ে কর্ম মিলে’ এই স্লোগানের মধ্যেই কারিগরি শিক্ষার তাৎপর্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কারিগরি শিক্ষা অর্জন করলে শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় না, বরং নিজেই উদ্যোক্তা হওয়া যায় এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ল্যাব, ওয়ার্কশপ কিংবা নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীল হওয়া যায়।


বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনেও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার শিল্পোন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম ভিত্তি হলো শক্তিশালী কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা। 

এসব দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। বাংলাদেশে বেকারত্ব হ্রাস, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্পের চাহিদা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও আরও সমৃদ্ধ হবে।

শুধু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দেশের বিপুল জনশক্তিকে কার্যকর মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। তাই কারিগরি শিক্ষার পরিধি ও সুযোগ আরও বিস্তৃত করা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশে নতুন নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দক্ষ মানবসম্পদই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রধান শক্তি। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের স্বার্থে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে যেসব শিক্ষার্থীর পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয় না, তারাও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব হ্রাস পাবে, অন্যদিকে দারিদ্র্য দূরীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি চাকরির সীমিত সুযোগের বাস্তবতায় আজ অনেক তরুণ-তরুণী আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, অটোমোবাইল প্রযুক্তি, ড্রাইভিং, মেশিন অপারেশন সার্ভিসিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্যাশন ডিজাইন, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, কনফেকশনারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নারীরাও ঘরে বসে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প গড়ে তুলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থানের এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।


বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন। আধুনিক বিশ্বে যোগ্যতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাই উন্নয়ন ও সাফল্যের প্রধান ভিত্তি। তাই প্রযুক্তিনির্ভর ও কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। 

কারিগরি শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে দেশের শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা। শিল্পনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী এবং প্রশিক্ষিত কারিগর। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত শিক্ষণীয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে জাপান ও জার্মানি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিল আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্পায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে। এ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিকল্প নেই। 

বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও জনসংখ্যার তুলনায় কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার এখনও সন্তোষজনক নয়। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার আরও ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে দেশের বেকারত্ব কমবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

‘একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ’– এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি)-এর প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে এবং উপজেলা পর্যায়ে ১০০টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সরকার বর্তমানে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩২৯ উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কু্ল ও কলেজ স্থাপন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি টিএসসি প্রতিষ্ঠিত হবে, যা কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। 

বর্তমানে দেশে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সংখ্যা প্রায় ১৬১টি। পাশাপাশি সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে ৫০টি। সরকার নতুন করে আরও ৪টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া দেশে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) রয়েছে ১১০টি, যার মধ্যে ১০৪টি টিটিসি এবং ৬টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট। এসব প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি বিভিন্ন ট্রেডে বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে আরও ৫০টি নতুন টিটিসি স্থাপনের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার যেমন বাড়বে, তেমনি দক্ষ জনশক্তি তৈরির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

তবে একটি কথা অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সমাজে এখনো কারিগরি কিংবা ভোকেশনাল শিক্ষাকে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। পরিবার ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ এখনো কারিগরি শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে পারেননি। দীর্ঘদিনের এই নেতিবাচক ধারণা দূর করতে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সেমিনার, কর্মশালা এবং সফল কারিগরি শিক্ষার্থীদের উদাহরণ তুলে ধরা প্রয়োজন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারিগরি প্রতিষ্ঠানে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও আর্থিক সংকট, পারিবারিক দায়বদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাবে তাদের নিয়মিত উপস্থিতির হার কম। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, প্রশিক্ষণ ভাতা এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। বিভিন্ন অনলাইন জরিপ অনুযায়ী, ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ। বর্তমানে তা প্রায় ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ৩০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উন্নত ও শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কারিগরি শিক্ষা অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। 

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ালেই হবে না, নতুন নতুন শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং দক্ষতার নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় পরিকল্পনার কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং অন্যান্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ (সিওই) হিসেবে গড়ে তুলতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেমন: অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, সকল কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কারিগরি জনবল নিয়োগ, ক্যারিয়ার গাইডেন্স জোরদার করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ভিত্তিক ও ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, আধুনিক অবকাঠামো ও ওয়ার্কশপ-ল্যাব উন্নয়ন, শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তোলা, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন অর্জনে উৎসাহ প্রদান, শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও মূল্যায়ন, স্থানীয় শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ও পেটেন্টের বাণিজ্যিকীকরণ, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সহায়তা, ল্যাব ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যৌথ বিনিয়োগ এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ই-লার্নিং সুবিধা নিশ্চিত করা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- কারিগরি শিক্ষার প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কারণ, স্মার্ট, আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো দক্ষ মানবসম্পদ, আর সেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম কারিগরি শিক্ষা। সুতরাং, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, অভিভাবক এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষাকে আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদই হবে আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর সেই সম্পদ সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হবে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা। তবেই গড়া সম্ভব কারিগরি শিক্ষায় উন্নত বাংলাদেশ। 

লেখক: কারিগরি শিক্ষক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন