EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

বিলুপ্তির দ্বার থেকে বর্ষসেরা ‘ব্ল্যাক রবিন’ পাখি

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম

বিলুপ্তির দ্বার থেকে বর্ষসেরা ‘ব্ল্যাক রবিন’ পাখি

ছবি: ব্ল্যাক রবিন পাখি। সংগৃহীত

অ অ

বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই করে টিকে আছে পৃথিবীর বুকে, সেই ব্ল্যাক রবিনই এবার জয় করল নিউজিল্যান্ডবাসীর মন। সব রেকর্ড ভেঙে নাগরিকদের বিপুল ভোটে দেশটির নতুন ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছে প্রকৃতির অন্যতম এক বিস্ময় এই ‘ব্ল্যাক রবিন’ পাখি।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদী স্বাধীন সংগঠন ‘ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড’ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্ল্যাক রবিন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ছোট্ট আকারের ঘন কালো রঙের এই স্থানীয় পাখিটির আবাস নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দূরে অবস্থিত দুর্গম চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে।

সাড়ে চার দশক আগে, ১৯৮০ সালে পৃথিবীতে ব্ল্যাক রবিনের সংখ্যা কমে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছিল। তাদের মধ্যে প্রজননক্ষম স্ত্রী পাখি ছিল মাত্র একটি। বর্তমানে এ পাখির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৫০টিতে দাঁড়িয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় ২৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়া পাখিটির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে প্রকৃতির এক অনন্য জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও শীর্ষ তালিকাএবারের আসরে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ব্ল্যাক রবিনের পরেই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত উড়তে না-পারা তোতাপাখি ‘কাকাপো’। আর তৃতীয় স্থানটি লুফে নিয়েছে দেশটির স্থানীয় শিকারি পাখি ‘ক্যারিয়ারিয়া ফ্যালকন’।

বিগত এক দশকে ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাটি বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রতিযোগিতাটিতে রাশিয়ার আইপি ঠিকানা থেকে শত শত ভোট আসায় বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল।

তবে আয়োজক সংস্থা জানায়, সিংহভাগ ভোটই বৈধ ছিল এবং তা বিজয়ী ‘হইহো’ (ইয়েলো-আইড পেঙ্গুইন) পাখির ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। আবার ২০২৩ সালে জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও টক-শো উপস্থাপক জন অলিভারের বৈশ্বিক প্রচারণার জেরে রেকর্ড ভোট পেয়ে ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছিল ‘পুটেকেটেকে’ পাখিটি।

তবে ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ডের প্রতিনিধি রেবেকা হ্যাচ জানিয়েছেন, এবারের আসরটি ছিল সম্পূর্ণ বিতর্কহীন এবং স্বতঃস্ফূর্ত। তিনি বলেন, “এ বছর ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ তাদের পছন্দের পাখিকে ভোট দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের প্রতি ৫০ জন নাগরিকের মধ্যে একজন এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যা প্রকৃতির প্রতি দেশটির মানুষের গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।”

ব্ল্যাক রবিনের এই বিজয়ের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে ‘চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্ট’। তারা পাখিটির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সম্প্রসারণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে।

ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্ল্যাক রবিনের নিরাপদ বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা ইতিমধ্যে একটি তৃতীয় আবাসস্থল তৈরির মহৎ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।এই বিজয় কেবল একটি প্রতিযোগিতার শিরোপা নয়, বরং বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিশ্ববাসীর জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

এবারের প্রতিযোগিতায় কালো রবিন পাখিটি এই তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে। এর পরেই রয়েছে বিখ্যাত উড়তে না-পারা তোতাপাখি পাখি কাকাপো। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় শিকারি পাখি ক্যারিয়ারিয়া ফ্যালকন।

প্রতি বছর ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্বাধীন সংরক্ষণবাদী সংগঠন ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড। গত এক দশকে প্রতিযোগিতাটি বেশ কয়েকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

২০১৯ সালে প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রাশিয়াভিত্তিক আইপি ঠিকানা থেকে শত শত ভোট জমা পড়েছিল। 

তবে ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড জানায়, বেশিরভাগ ভোটই বৈধ ছিল এবং এসব ভোটের কারণে বিজয়ী হইহো বা ইয়েলো-আইড পেঙ্গুইনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।

২০২৩ সালে ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয় পুটেকেটেকে। জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও ‘লাস্ট উইক টুনাইট’-এর উপস্থাপক জন অলিভার প্রকাশ্যে পুটেকেটেকের পক্ষে প্রচারণা চালান এবং তার দর্শকদের এই হ্রদে বসবাসকারী পাখিটির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ডের রেবেকা হ্যাচ জানিয়েছেন, এ বছর ভোটারের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছিল না।

হ্যাচ বলেন, ‘এ বছর রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ তাদের পছন্দের পাখিকে ভোট দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের মানুষ প্রকৃতির প্রতি তাদের সমর্থন দেখিয়েছেন। দেশটির প্রায় প্রতি ৫০ জন মানুষের একজন ভোট দিয়েছেন।’

ব্ল্যাক রবিন পেয়েছে ২৬ হাজারের বেশি ভোট।

ব্ল্যাক রবিনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্ট। পাখিটির আবাসস্থল বাড়ানো ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তারা একটি তৃতীয় আবাসস্থল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুন