EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

বিশেষ লেখা

আমাদের বুড়িগঙ্গা নদীটি

ইমদাদুল হক মিলন

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭ এএম

আমাদের বুড়িগঙ্গা নদীটি
অ অ

আমার ছেলেবেলার জীবনের কয়েকটি বছর কেটেছে পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার থার্ড লেনে। বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রাম আর জিন্দাবাহারের চিপা গলির ভেতরকার বাড়ি, এই দুই জায়গায় পড়ে আছে আমার অনেকখানি ছেলেবেলা।

সাত-আট বছর বয়স হবে। আমাদের বেড়ানোর প্রধান জায়গা ছিল সদরঘাট। সেখানে তখনো লঞ্চ টার্মিনাল হয়নি। বাকল্যান্ড বাঁধের কোনো কোনো জায়গা কেটে সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে।

সেই সিঁড়ি নেমে গেছে বুড়িগঙ্গা তীরের বালিয়াড়িতে। বিভিন্ন জেলার লঞ্চ এসে থামত তীরে। কী স্বচ্ছ পানি বুড়িগঙ্গার! তলার নুড়ি পাথরটিও দেখা যায়। শ্রমজীবী মানুষ নদীতে নেমে গোসল করত।

কেউ কেউ সাঁতার কেটে নদী এপার ওপার করত। কত খেয়ানৌকা নদীতে। নৌকা থামার জায়গাটিকে বলা হতো ‘গুদারাঘাট’। বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়ালে হু হু করা হাওয়ায় ভেসে আসত নদীর পানির মন ভালো করা গন্ধ। কী বিস্তীর্ণ নদী বুড়িগঙ্গা! এই নদীর পানিও দুপাড়ের মানুষ তখন পান করত।

ঠিলা কলস ভরে ভরে পানি বয়ে নিতেন নারীরা। তখনো পানি ফুটিয়ে খাওয়ার কথা জানে না অনেকে। ঠিলা বা কলসিতে এক টুকরা ফিটকিরি ফেলে দিলে বুড়িগঙ্গার পানি হয়ে যেত সুস্বাদু ও উপাদেয়।

জিন্দাবাহারের জীবনে একবার বাড়ির সবাই মিলে মিরপুর মাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা হলো। একষট্টি-বাষট্টি সালের কথা। ঢাকা থেকে মিরপুরে যাওয়ার তখন কোনো রাস্তা তৈরি হয়নি। মাটির কাঁচা পথে হেঁটে যাওয়া মুশকিল। বড় একটি নৌকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাদামতলী ঘাট থেকে নৌকায় চড়েছিলাম। বুড়িগঙ্গার পশ্চিমমুখী নৌকা চলছে। পশ্চিমে চলতে চলতে উত্তরে বাঁক নিয়েছিল একসময়। নদীর দুপাড়ে তখন একেবারেই গ্রামীণ দৃশ্য। গৃহস্থ নারী পুরুষের প্রতিদিনকার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বুড়িগঙ্গা। নদীর দুতীর ঘেঁষেই ভেঁসাল পেতে মাছ ধরছেন জেলেরা। কত ডিঙিনৌকা আর মহাজনি নৌকা নদীতে। কোথায় হারিয়ে গেছে নদীটির সেই চেহারা!

আমার কৈশোরকাল শুরু হয়েছিল পুরান ঢাকার আরেক প্রান্তে, গেণ্ডারিয়ায়। গেণ্ডারিয়া হাই স্কুল, ধূপখোলা মাঠ আর মিলব্যারাকের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা। মিলব্যারাক মাঠের পশ্চিম দিক আর ফরাশগঞ্জের পূর্ব দিক, তার মাঝখান দিয়ে উত্তরে ঢুকে গেছে ধোলাইখাল। সেই খালও এখনকার অনেক নদীর চেয়ে বিস্তৃত। খালের ওপর সূত্রাপুরের বিখ্যাত লোহারপুল, কলুটোলা আর ডিস্ট্রিলারি রোডের কাঠেরপুল। বর্ষায় মহাজনি নৌকা চলত ধোলাইখালে। দুপাড়ের মানুষজন খালের পানিতে ধোয়াপাকলার কাজ করত, গোসল করত। আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে কাঠেরপুলের ওপর থেকে কত কত দুপুরে খালের জলে লাফিয়ে পড়েছি। ডুবোডুবি আর সাঁতার কেটে দুপুরবেলা ফুরিয়ে ফেলেছি। সেই আনন্দের কাল অবিস্মরণীয় হয়ে আছে জীবনে। ধোলাইখালের বর্ষার পানিও খাওয়ার উপযোগী ছিল তখন। রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহৃত তো হতোই।

সাতষট্টি-আটষট্টি সালের কথা। আমরা বন্ধুরা মিলে ছুটির দিনে মিলব্যারাকের পশ্চিম পাশে চলে যেতাম গোসল করতে। বর্ষাকাল। বুড়িগঙ্গার পানি বিপুল স্রোত নিয়ে ঢুকে যাচ্ছে ধোলাইখালে। স্রোতের কলকল শব্দ হচ্ছে। আমরা গোসল করতে নেমেছি ওই দিকটাতেই। হঠাৎই আমাদের বন্ধু পান্নার আর্তচিৎকার। সাঁতার কাটতে থাকা আর পানিতে লাফঝাঁপ করতে থাকা বন্ধুরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকিয়েছি। দেখি পান্না ভেসে যাচ্ছে স্রোতের টানে। ভালো সাঁতার জানে সে। তার পরও স্রোতের তোড়ে এগোতে পারছে না। এক মাঝি দ্রুত নৌকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন, পান্নাকে উদ্ধার করেছিলেন। এখন সেই ধোলাইখালটিই নেই। লোহারপুল কাঠেরপুল কোথায় হারিয়ে গেছে! ধোলাইখালের জায়গায় এখন পাকা রাস্তা।

গ্রীষ্মকালে সামান্য সরু হতো বুড়িগঙ্গা। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় আমরা কয়েক বন্ধু মিলে বাজি ধরে সাঁতার কেটে বুড়িগঙ্গা এপার ওপার করেছিলাম। সাঁতার কাটতে কাটতে কত পানি যে খেয়েছিলাম বুড়িগঙ্গার, তা বলা যাবে না। সাঁতার কাটতে গেলে পানি তো মুখে যাবেই। কোথায় হারিয়ে গেছে আমাদের সেই প্রিয় নদীটি! একদার স্বচ্ছতোয়া নদীটি এখন মৃতপ্রায়। ঢাকার মানুষ, আমরা নদীটি মেরে ফেলেছি। এখনো দেশের কোনো কোনো নদী বর্ষায় পাড় ভাঙে। মানুষের ঘরবাড়ি বিলীন হয়। নদীভাঙা মানুষ বলে, ‘নদী সব খেয়ে ফেলেছে।’ বুড়িগঙ্গার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। মানুষই বুড়িগঙ্গা খেয়ে ফেলেছে। বুড়িগঙ্গার মতো দেশের অনেক নদী খেয়ে ফেলেছে, মেরে ফেলেছে। গত চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছরে ধীরে ধীরে, সূক্ষ্মভাবে বুড়িগঙ্গা কলুষিত হতে লাগল, পাড় দখল হতে লাগল। যে যেভাবে পারে নদীটি খেয়ে ফেলতে লাগল। এখন নদীটি ভয়াবহ রকমের অস্তিত্ব সংকটে। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, দেশের বহু নদী এই সংকটে মরে গেছে। দখল হয়ে গেছে নদী।

বুড়িগঙ্গা দখল চলছে দীর্ঘদিন ধরে। দখল করে নানা ধরনের স্থাপনা তৈরি হয়েছে। কামরাঙ্গীর চর আর কেরানীগঞ্জ প্রান্তেও হয়েছে একই রকমের দখল। বিস্তীর্ণ নদীটি ধীরে ধীরে শীর্ণ হয়ে গেছে। এই দখলে বরাবরই যুক্ত থেকেছে সমাজের নানা ধরনের প্রভাবশালী মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ। নদী দখল করে বসতবাড়ি করা হয়েছে। দোকানপাট মিলকারখানা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। নদীর অনেকখানি ভেতর পর্যন্ত প্রথমে তৈরি করা হয়েছে মাছের ঘের। তারপর ধীরে ধীরে বালু ফেলে ওই অংশটা ভরাট করা হয়েছে। যিনি ভরাট করেছেন তিনিই জমির মালিক। এইভাবে কোথাও তৈরি করা হয়েছে ডকইয়ার্ড, বালুর গদি। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছেন নদী দখলকারীরা। আবার কোথাও কোথাও বর্জ্য ফেলেও দখল করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা। নদীর সীমানা পিলারগুলো গায়েব হয়ে গেছে। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নদীর দুপাশ থেকে সরাসরি এসে পড়ছে নদীতে। অতি দুর্গন্ধযুক্ত, কালো রঙের এই বর্জ্য নদীর পানি পচিয়ে ফেলেছে। ফলে বুড়িগঙ্গায় এখন কোনো মাছ নেই। কোনো জলজ প্রাণীই এই নদীতে আর বাঁচতে পারছে না। শীর্ণ বুড়িগঙ্গার পাশ দিয়ে বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধে হাঁটা যায় না। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, পতিত সরকারেরে এক এমপি ৫৪ একরের বেশি নদী, নদীবন্দর, এলাকার জমি ও ফ্লাড ফ্লো জোন দখল করে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন।

দু-আড়াই দশক ধরে বুড়িগঙ্গা বাঁচানোর জন্য আন্দোলন করছে বহু পরিবেশ রক্ষাকারী সংগঠন। দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোও বুড়িগঙ্গা নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন করে গেছে। সংবাদপত্রের পাতায় নিয়মিত ছাপা হয়েছে বুড়িগঙ্গার করুণ দশা নিয়ে প্রতিবেদন ও কালচে পানির ছবি। এত লেখালেখি আর পরিবেশবাদীদের আন্দোলনে তেমন কোনো কাজই আসলে হয়নি। একদিকে নদীর দুই পাড়ের দখল করা জমি উদ্ধারের জন্য বহু স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। নদী দখলমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দখলকারীরা নতুন উদ্যমে আবার সেই জমি দখলে নিয়েছেন। কাজের কাজ বলতে আসলে কিছুই হয়নি।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ বুড়িগঙ্গা নিয়ে চমৎকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদক শামীম আহমেদ অত্যন্ত পরিশ্রম করে বহুদিনের চেষ্টায় বুড়িগঙ্গা নিয়ে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করে প্রতিবেদনটি করেছেন। প্রতিবেদনের এক অংশে লেখা হয়েছে, নদী গবেষক শেখ রোকন বলেছেন, ‘বুড়িগঙ্গাকে পরিকল্পিতভাবে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওয়াশপুর থেকে হজরতপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশ এখন মরা বুড়িগঙ্গা। এ অংশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগও সরকারি পরিকল্পনা থেকে বাদ পড়েছে। সেখানে সীমানা পিলারও বসানো হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০৫ সালের দলিলে বুড়িগঙ্গার দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার বলা হলেও ২০১১ সালে তা ২৯ কিলোমিটার দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ১৬ কিলোমিটার নদী কাগজ থেকেই হারিয়ে গেছে। এই ১৬ কিলোমিটার ভুলে যাওয়া কি দখলদারদের সুবিধা দেওয়ার জন্য? তাঁর অভিযোগ, নদী ভরাটের পর বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট পয়েন্টের বাইরে সীমানা পিলার বসানো হয়েছে। সেই সুযোগে দখল আরো বিস্তৃত হয়েছে।’

প্রতিবেদক শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, গত দুই দশকে বুড়িগঙ্গা রক্ষায় তিন হাজার ২৯৪ কোটি টাকার আটটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও দৃশ্যমান সুফল মেলেনি।

এই প্রতিবেদনে অবিশ্বাস্য অনেক ঘটনা জানা গেছে। যেমন—বাংলাদেশে নদী দখলদারের সংখ্যা। ২০১৯ সালে নদী দখলদারের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০। অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার ৫৭৯টি দখল উচ্ছেদ করা হলেও একই বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ হাজার ২৪৯। চলতি বছরের জুন মাসে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংসদে জানান, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২১ হাজার ৯৯৮ অবৈধ নদী দখলদার শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশকে বলা হতো নদীমাতৃক দেশ। এক হাজার ৩০০ নদী ছিল এই দেশে। শত শত বছরে হারিয়ে গেছে অনেক নদী। তার পরও টিকে ছিল অনেক নদী। ৭০০ নদী বেঁচে থাকার তথ্য আমরা জানতাম। এখন শোনা যায় ৪০০টির কথা। তার মধ্যেও বহু নদী মারা গেছে অথবা মৃত্যু যন্ত্রণায় ধুঁকছে। শীর্ণ খালের মতো হয়ে গেছে অনেক নদী। বর্ষায় কিছুটা খালের রূপ ধারণ করে, গ্রীষ্মে ডিঙিনৌকা চলাচলেরও উপযুক্ত থাকে না। দুধারে ফসলের চাষ করে গৃহস্থরা। আবার কোনো কোনো নদী খুঁজেই পাওয়া যায় না। ড্রেন কিংবা নালায় রূপ নিয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে কোনো কোনো নদী। আবার কোনো কোনো নদী একেবারেই উধাও। মুন্সীগঞ্জ থেকে দক্ষিণে চলে গিয়েছিল ‘রজতরেখা’ নামের মাঝারি আকৃতির এক নদী। সেই নদী এখন আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ’র কাজে সারা দেশ ঘুরে বেড়াই আমি। নদীর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছেলেবেলা থেকে। যে জেলায়ই যাই, সেখানে গিয়ে প্রথমেই খোঁজ করি জেলার ভেতর দিয়ে কিংবা আশপাশ দিয়ে বয়ে গেছে কোন নদীটি। সেই নদীর অবস্থা জানার চেষ্টা করি। বেশির ভাগ নদীই দেখি শীর্ণ চেহারা নিয়ে ধুঁকছে। দখলে দূষণে শেষ হয়ে গেছে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র অসামান্য উপন্যাস ‘কাঁদো নদী কাঁদো’তে দেখা গেছে, মানুষের দুঃখে নদী কাঁদে। আর এখন নদী হারিয়ে যাওয়ার দুঃখে দেশপ্রেমী সচেতন মানুষ কাঁদছে। প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে যাঁরা ভাবেন, তাঁরা কাঁদছেন।

এই অবস্থা থেকে যেকোনো মূল্যে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের। দেশের নদীগুলো বাঁচাতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আশার আলো দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা যায়, নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ কিভাবে স্বাভাবিক রাখা যায় আর ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায়, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগে নিশ্চয় বুড়িগঙ্গা কিছুটা বেঁচে উঠবে।   

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই পর্যন্ত গ্রহণ করা প্রতিটি উদ্যোগই অতিশয় আশাপ্রদ। ঢাকার চারপাশের নদীগুলো সুরক্ষার জন্য তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা অবশ্যই পালিত হবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে তিনি যদি দেশের প্রতিটি জেলার ভেতর দিয়ে অথবা পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর কথাও এইভাবে ভাবেন, তাহলে আমাদের বহু নদী বেঁচে যাবে। হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে পাবে অনেক নদী।

‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর প্রতিবেদনের সঙ্গে অসাধারণ একটি ছবি ছাপা হয়েছে। দখল হওয়া বুড়িগঙ্গার তীরে একটি বোর্ড টাঙিয়ে রেখেছে কোনো পরিবেশ রক্ষাকারী সংগঠনের মানুষ। সেখানে লেখা আছে, ‘বুড়িগঙ্গা বাঁচাও, নইলে আমরাই বাঁচব না’। এ কথা দেশের দখল দূষণে ধুঁকতে থাকা প্রতিটি নদীর ক্ষেত্রেই সত্য। নদীগুলো না বাঁচলে আমরাই বাঁচব না।

আরও পড়ুন