দিগন্তজোড়া হলুদের ঢেউ: পৌষের হিমেল হাওয়ায় দুলছে সরিষা ফুল। ছবি: এম শাহজাহান
শীতের শিশিরভেজা সকালে কুয়াশার চাদর ফুঁড়ে উঁকি দিচ্ছে তপ্ত সোনা রঙের এক মায়াবী রূপ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই কেবল হলুদের সমারোহ।
গ্রামবাংলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন সরিষার হলুদ হাসিতে একাকার। মাঠের পর মাঠ যেন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি- দেখে মনে হয় প্রকৃতি যেন তার আপন খেয়ালে দিগন্তজুড়ে বিছিয়ে দিয়েছে এক বিশাল স্বর্ণালি গালিচা।
দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণের জনপদ- ফসলের মাঠে এখন সরিষা ফুলের রাজত্ব। অগ্রহায়ণের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই দৃশ্যের পূর্ণতা পেয়েছে পৌষের এই দিনগুলোতে।
শুধু কি চোখজুড়ানো রূপ? সরিষার এই মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ। ভোরের হিমেল বাতাসে দুলতে থাকা সরিষা ফুলের ঢেউ যেন কৃষকের মনেও দোলা দিয়ে যাচ্ছে এক নতুন স্বপ্নের।
সরিষার এই চোখধাঁধানো রূপ কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমেও। গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউবে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ছে হলুদের আভা। তরুণ-তরুণীরা ভিড় জমাচ্ছেন সরিষা খেতগুলোতে।
-695a6c1e775c0.jpg)
যান্ত্রিক শহরের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির একটু ছোঁয়া পেতে সপরিবারে বা বন্ধুদের নিয়ে অনেকে ছুটে যাচ্ছেন গ্রামীণ জনপদে। সরিষা ফুলের প্রেক্ষাপটে তোলা এসব ছবি ও ভিডিও এখন ডিজিটাল দুনিয়ায় ভাইরাল। গণমাধ্যমগুলোও ফলাও করে প্রচার করছে এই ‘হলুদ বিপ্লব’-এর খবর।
এবার সরিষার আবাদ গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষা খেতের পাশে দেখা মিলছে মৌমাছি চাষের বাক্স। সেখান থেকে আহরণ করা হচ্ছে খাঁটি মধু, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
সাভারের এক কৃষক জানান, ‘এবার সরিষার ফলন বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। সরিষার দামও বাজারে বেশ ভালো। এই হলুদ ফুল কেবল রূপ না, আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ।’
ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা যেমন সাভার, সিঙ্গাইর কিংবা আড়াইহাজারে সরিষা খেত দেখতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। হলদে রঙের পাঞ্জাবি আর শাড়িতে সেজে ছবি তুলতে আসা মানুষের আনাগোনা সরিষা খেতগুলোকে যেন এক মিলনমেলায় পরিণত করেছে।
প্রকৃতির এই রূপ মনে করিয়ে দেয়, ইট-পাথরের দেয়াল ছাড়িয়ে বাইরে এক বিশাল জগত রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর শীতের শুরুতে এভাবেই নেমে আসে হলুদের প্লাবন। সরিষার এই হাসি বয়ে আনুক বাংলার ঘরে ঘরে সমৃদ্ধি- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।