EN ☀️
×

Follow Us

গণমাধ্যম

সাংবাদিকতায় নেতৃত্ব গড়তে ৩২ নারী শিক্ষার্থীর বিশেষ প্রশিক্ষণ

ডেইলি সান রিপোর্ট, মানিকগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

সাংবাদিকতায় নেতৃত্ব গড়তে ৩২ নারী শিক্ষার্থীর বিশেষ প্রশিক্ষণ
অ অ

গণমাধ্যমে আগামীর নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের চারটি শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ জন নারী শিক্ষার্থী তিন দিনের একটি নিবিড় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।

সুইডেনভিত্তিক ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এজাইল প্রকল্পের ওমেন মিডিয়া লিডারস অব টুমরো (ডাব্লিউএমএলটি) উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণটি আয়োজন করা হয়। ৯ থেকে ১১ মে মানিকগঞ্জের গণকল্যাণ ট্রাস্টে (জিকেটি) কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্কের (সিজেন) সহযোগিতায় এ উদ্যোগে সহায়তা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 

এই প্রশিক্ষণে প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাংবাদিকতায় নেতৃত্বের ধারণা স্পষ্ট করতে গুরুত্ব দেওয়া হয় আত্ম-নেতৃত্ব, রোল মডেল এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ মিডিয়া পরিবেশে টিকে থাকার কৌশলের ওপর, যেখানে কর্মপরিবেশ ও পারিশ্রমিক অনেক সময়ই অনিশ্চিত থাকে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে নিউজরুম নেতৃত্বে পৌঁছানোর পথ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সুপারভাইজার বা ম্যানেজার হওয়ার সঙ্গে কার্যকর নেতৃত্বের পার্থক্যও উঠে আসে। সেশনগুলোতে পরামর্শক হিসেবে ছিলেন ফোয়ো মিডিয়া ইনিস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সার্সতি ফোর্সবার্গ। 

এতে আরও অংশ নেন গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের বাংলা সম্পাদক শেষ তানভীর মাহমুদ, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ; সাংবাদিক জেসমিন পাপড়ি ও নাজিয়া আফরিন, চ্যানেল ২৪-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মরিয়ম আজিজ মৌরিন। 

এছাড়া ডাব্লিউএমএলটি উদ্যোগের প্রথম ব্যাচের দুজন শিক্ষার্থীও তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সুভা তাহসিন ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম এবং যোগাযোগ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার। 

কর্মশালার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি ও হয়রানির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও পেশাগত স্থিতিস্থাপকতা। ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজপেপারস অ্যান্ড নিউজ পাবলিশার্স (ওয়ান-ইফরা) সেক্সুয়াল হ্যারেসমেন্ট হান্ডবুক ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের মাঠপর্যায় ও নিউজরুমে হুমকি ও হয়রানি শনাক্ত, নথিবদ্ধ এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জোর দেওয়া হয়, হয়রানি ও নির্যাতন সাংবাদিকতার স্বাভাবিক অংশ নয় এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা রয়েছে।

কর্মশালার শেষ দিনে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি প্রতিফলনমূলক আলোচনা হয়। এতে নেতৃত্বে পৌঁছাতে পরামর্শ, পেশাগত নেটওয়ার্ক এবং সহায়ক নিউজরুম সংস্কৃতির গুরুত্ব উঠে আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা তাসনিম বলেন, প্রশিক্ষণটি উদীয়মান মিডিয়া পেশাজীবীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সহায়তা করেছে এবং ফিল্ড রিপোর্টিং নিয়ে ভীতি কমিয়েছে। 

তিনি জানান, এখানে রিপোর্টিং, নিউজরুম ব্যবস্থাপনা এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি মোকাবিলার বাস্তব দক্ষতা শেখানো হয়েছে। পাশাপাশি আইনি সুরক্ষা ও জিআইজেএন ফেলোশিপসহ বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে, যা বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিন কালাম বলেন, কর্মশালাটি ছিল তথ্যবহুল ও অনুপ্রেরণামূলক। মিডিয়া নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও দলগত কাজের বাস্তব দিকগুলো তিনি এখানে শিখেছেন। ইন্টারেক্টিভ সেশন ও মেন্টরশিপ তার আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অভিজ্ঞ মিডিয়া পেশাজীবীদের সঙ্গে শেখার সুযোগকে তিনি বিশেষভাবে মূল্যবান মনে করেন।

প্রসঙ্গত, এজাইল একটি বৈশ্বিক কনসোর্টিয়াম (২০২৫–২০২৮), যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বিশ্বজুড়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর সদস্য সংগঠনগুলো হলো ইন্টারনিউজ ইউরোপ, ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউট, সিএফআই ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া, থমসন মিডিয়া এবং আর্টিকেল ১৯। এই কনসোর্টিয়ামের আওতায় ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউট ওয়ার্কস্ট্রিম ৫-এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা নেতৃত্ব উন্নয়নে কাজ করছে।

আরও পড়ুন