ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘রেড স্পার্ক’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত
নাম নয়, কবিতাই মুখ্য: রহস্যময় ‘এম অ্যান্ড এন অ্যালায়েন্স’- এর কাব্যযাত্রা
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
ছবি: কামরুল ইসলাম রতন
রাজধানীর পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো এম অ্যান্ড এন রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘রেড স্পার্ক’- এর প্রচ্ছদ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা জগতের বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই প্রকাশনা উৎসবটি একটি প্রাণবন্ত আলোচনা সভায় রূপ নেয়।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত অনুবাদক অধ্যাপক আবদুস সেলিম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফী আহমেদ এবং কথাসাহিত্যিক একরাম কবির আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কথাসাহিত্যিক মুজাফফর হোসেন।
আলোচনা সভায় অধ্যাপক আবদুস সেলিম কবিতার প্রকৃতি ও কবির কল্পনাশক্তি নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য প্রদান করেন। টি. এস. এলিয়টের তত্ত্বের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কল্পনা এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ থেকেই কবিতার জন্ম। জীবনানন্দ দাশের উক্তি টেনে তিনি বলেন, ‘সবাই কবি নয়, কেউ কেউ কবি’।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘রেড স্পার্ক’-এর কবিতাগুলোতে জন ডানের মেটাফিজিক্যাল শৈলী এবং পাবলো নেরুদার শারীরিক কাব্যিক অভিব্যক্তির এক চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। বাঙালি কবিদের জন্য ইংরেজিতে কবিতা লেখার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বইটির বৈশ্বিক আবেদনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘রেড’ ও ‘স্পার্ক’ শব্দ দুটি এখানে ভালোবাসা ও আবেগের প্রতীক।
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর প্রেম, রাষ্ট্র এবং ভাষা রাজনীতির একটি তাত্ত্বিক দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রেম কোনো বিচ্ছিন্ন আবেগ নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ধারণা। জার্মান দার্শনিক হেগেলের বরাত দিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, রাষ্ট্র গঠনের মূলে রয়েছে ভালোবাসা। যেভাবে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাগুলো একটি ‘সাধারণ ইচ্ছায়’ পরিণত হয়, ঠিক সেভাবেই সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও আয়োজক তাবাসসুম মাইশা মোনা বলেন, ‘একটি প্রশ্ন অনেকের মনেই এসেছে বা আসতে পারে, যার স্পষ্টীকরণ শুরুতেই দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। আর তা হলো- বইটিতে কবির নামের অনুপস্থিতি। আসলে ‘রেড স্পার্ক’-এর নেপথ্যে থাকা কবি বা কবিরা সচেতনভাবেই তাদের পরিচয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই কারণেই কাব্যগ্রন্থটির কোথাও তাদের পুরো নাম ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে তারা তাদের নামের আদ্যাক্ষর ব্যবহার করেছেন এবং সম্মিলিতভাবে নিজেদের ‘এম অ্যান্ড এন অ্যালায়েন্স’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।’
মাইশা আরও যোগ করেন, ‘আয়োজক হিসেবে আমি এটুকু বলতে পারি- বইটি একটি প্রেমগাথা, যেখানে দু’টি মানুষের ভালোবাসার গল্প চিত্রিত হয়েছে। আমি আশা করি, কবিরা নিজেদের জন্য যে ‘অনুচ্চারিত সীমাবদ্ধতা’ বেছে নিয়েছেন, তা আমরা সবাই সদয়ভাবে ও সাদরে গ্রহণ করব।’
অধ্যাপক শফী আহমেদ বলেন, বর্তমান অস্থির সময়ে এই বইটি প্রেমের একটি ইতিবাচক ও আশাবাদী রূপ তুলে ধরেছে। বইটির শৈল্পিক বিন্যাস এবং অলঙ্করণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি পাঠকদের নতুন এক নান্দনিক অভিজ্ঞতা দেবে।
কথাসাহিত্যিক একরাম কবির কবিতায় সহজবোধ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি কবিতায় একটি গল্প থাকা প্রয়োজন যা পাঠকরা নিজের জীবনের সাথে মেলাতে পারে। তিনি বইটির একটি অডিও সংস্করণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি রামেন্দু মজুমদার বইটির নির্বাচিত কিছু কবিতা আবৃত্তি করেন। গুণীজনদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি একটি জ্ঞানগর্ভ মিলনমেলায় পরিণত হয়।