সিসামুক্ত খাবারের জন্য বেছে নিন নিরাপদ রান্নার পাত্র। ছবি: জুয়েল শীল
সংসারের বাজেট সামলাতে গিয়ে দেশের অনেক পরিবার প্রতিদিন রান্নায় সস্তা অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল ও কড়াই ব্যবহার করে। কিন্তু উৎস অজানা এই পাত্র কম দামে সাশ্রয় দিলেও পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ভাঙারি বা পুনর্ব্যবহৃত নিম্নমানের ধাতু গলিয়ে তৈরি কিছু পাত্র থেকে রান্নার সময় খাবারে সিসার মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু মিশতে পারে।
টমেটো, লেবু, টক দই বা ভিনেগারের মতো অ্যাসিডিক খাবার এসব পাত্রে রান্না করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। দীর্ঘদিন শরীরে সিসা জমলে মস্তিষ্ক ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও গুরুতর। তাই দাম নয়, পাত্রের মান ও উৎসকে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
তুলনামূলক নিরাপদ তিন পাত্র
স্টেইনলেস স্টিল: উচ্চমানের স্টিল সাধারণত খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না, ফলে স্বাদ ও পুষ্টি অক্ষুণ্ন থাকে। মরিচা ধরে না, পরিষ্কারও সহজ। কেনার সময় ভারী বা ‘ট্রাই-প্লাই’ তলার পাত্র বেছে নিন, এতে খাবার সহজে পুড়ে যায় না।
লোহার পাত্র: লোহার কড়াইয়ে রান্না করলে খাবারে সামান্য আয়রন যুক্ত হয়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে। ধোয়ার পর হালকা তেল মাখিয়ে রাখলে জং ধরে না। তবে টক জাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ রান্না না করাই ভালো।
মাটির পাত্র: ডাল ও ঝোলজাতীয় রান্নার জন্য মাটির হাঁড়ি উপযোগী, এতে কম তেলে রান্না করা যায়। চকচকে গ্লেজযুক্ত পাত্রে সিসা থাকতে পারে, তাই গ্লেজ খাদ্য-নিরাপদ কি না নিশ্চিত হয়ে নিন। সাধারণ পোড়ামাটির পাত্র সবচেয়ে নিরাপদ।
ফেরিওয়ালার কাছ থেকে অতিরিক্ত চকচকে ও হালকা ধাতব পাত্র কিনবেন না। নন-স্টিক পাত্রের কোটিং উঠে গেলে বা গভীর আঁচড় পড়লে সেটি বদলে ফেলুন।
সুস্থতা শুরু হোক আপনার রান্নাঘর থেকেই। সচেতন হোন, সঠিক পাত্র বেছে নিন এবং পরিবারকে রাখুন ঝুঁকিমুক্ত।