EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

শীত আসার আগেই যে ৬ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

ডেইলি সান রিপোর্ট, লাইফস্টাইল

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ এএম

শীত আসার আগেই যে ৬ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটতে এখনো কিছুটা সময় বাকি। তবে শেষ রাতের হিমেল হাওয়া আর ভোরের হালকা কুয়াশা জানান দিচ্ছে, প্রকৃতিতে ঋতুবদলের ছোঁয়া লেগেছে। শীতের প্রস্তুতি বলতে অনেকেই শুধু আলমারি থেকে ভারী কম্বল বের করা কিংবা নতুন সোয়েটার কেনাকাটাকেই বোঝেন।

তবে শীতের প্রস্তুতি শুধু পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর ও ত্বকের যত্নেও প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ। এ সময় দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে শীতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। পাশাপাশি শীতের দিনগুলোও কাটে স্বস্তিতে।

ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আর্দ্রতা থেকে মুক্তি পেয়ে অনেকেই শীতের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু আবহাওয়া হঠাৎ বদলে গেলে ঠাণ্ডা লাগা, ত্বক শুষ্ক হওয়া কিংবা অন্যান্য শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। জেনে নিন, শীতের আগে যে ছয়টি বিষয়ে যত্ন নেওয়া জরুরি।

১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অনেকের ত্বকে টান ধরে, চামড়া ওঠে কিংবা ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। তাই শীত আসার আগেই ত্বকের যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী পেট্রোলিয়াম জেলি, কোকো বাটার কিংবা নারিকেল তেলের মতো উপাদানও ব্যবহার করা যায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকুন।

পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ গোসল করা এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হবে।

২. শীতের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত রাখুন

শীত জেঁকে বসার আগেই প্রয়োজনীয় পোশাক গুছিয়ে রাখা ভালো। আলমারিতে তুলে রাখা সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর ও কম্বল বের করে পরিষ্কার করে নিন। সম্ভব হলে কয়েক ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে নিন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা পোশাকে ধুলা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ থাকতে পারে। প্রয়োজনে ড্রাই ক্লিন করিয়ে নিন।

শীতের পোশাক কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে নিতে পারেন। আরামদায়ক সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, মোজা ও প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক ওয়ার্ডরোবে রাখুন। পোশাক নির্বাচনের সময় শুধু ফ্যাশন নয়, আরাম ও উষ্ণতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখুন।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতকালে অনেকেরই পানি পানের তৃষ্ণা কমে যায়। ফলে অজান্তেই শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। গরমের তুলনায় শীতে তৃষ্ণা কম অনুভূত হলেও শরীরের পানির প্রয়োজন কমে যায় না।

তাই শীতের সময়ও নিয়মিত পানি পান করুন। শুধু তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস রাখুন। চাইলে কুসুম গরম পানিও পান করতে পারেন।

প্রতিদিন কতটুকু পানি প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পানের নিয়ম নেই। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই ভালো।

৪. খাবারে রাখুন পুষ্টি ও উষ্ণতার সমন্বয়

শীতের দিনে গরম স্যুপ কিংবা মসলাদার খাবার খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এসব খাবার শরীরকে সাময়িক উষ্ণতার অনুভূতি দিতে পারে। তবে শুধু ঝাল খাবার খেলেই শরীর দীর্ঘক্ষণ গরম থাকবে, এমন নয়।

শীতের সময় খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন। শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস ও বাদাম শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘরে তৈরি গরম স্যুপও রাখতে পারেন খাবারের তালিকায়।

শীতের অন্যতম আকর্ষণ পিঠাপুলি। চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা কিংবা গরম খাবারের সঙ্গে ভর্তা খাওয়ার আনন্দও আলাদা। তবে অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ঝাল এড়িয়ে পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।

৫. ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন

শীতের সময় ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা জরুরি। বিশেষ করে যেসব ঘরে বাতাস চলাচল কম, সেখানে স্যাঁতসেঁতে ভাব বা অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি হতে পারে।

ঘরের আর্দ্রতা প্রয়োজন অনুযায়ী রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যায়। এটি বাতাসে জলীয় বাষ্প যোগ করে শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। তবে হিউমিডিফায়ার নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। অপরিষ্কার যন্ত্রে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মাতে পারে।

এ ছাড়া ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। বিছানার চাদর, কম্বল ও পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ঘর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখলে শীতের দিনগুলোতে স্বস্তি পাওয়া সহজ হবে।

৬. শরীর সচল রাখুন

শীতকালে ঠাণ্ডার কারণে অনেকেই ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি কমিয়ে দেন। কিন্তু সুস্থ থাকতে এ সময়ও নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি। শারীরিক নড়াচড়া রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে, পেশির শক্তি ধরে রাখতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সকালে বা বিকেলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুক্ষণ হাঁটতে পারেন। এ ছাড়া দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, যোগব্যায়াম কিংবা ঘরে হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

বাইরে খুব ঠাণ্ডা থাকলে ঘরের ভেতরেই শরীরচর্চা করতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটুন। তবে ব্যায়াম শুরুর আগে শরীরকে প্রস্তুত করতে হালকা ওয়ার্মআপ করে নিন।

আগাম প্রস্তুতিতে স্বস্তির শীত

শীত উপভোগ করতে হলে শুধু গরম পোশাকের ব্যবস্থা করলেই চলবে না। ত্বকের যত্ন, পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার, ঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার দিকেও নজর দিতে হবে।

শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এসব অভ্যাস গড়ে তুললে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। ছোট ছোট প্রস্তুতিই শীতের দিনগুলোকে করে তুলতে পারে আরও আরামদায়ক ও প্রাণবন্ত।

আরও পড়ুন