EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটছে? যত্ন নেবেন যেভাবে

ডেইলি সান রিপোর্ট, জীবনযাপন

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটছে? যত্ন নেবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শীত আসার আগেই অনেকের ঠোঁট শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, শুষ্ক বাতাস এবং শরীরে আর্দ্রতার ঘাটতির কারণে ঠোঁট ফাটতে পারে। এ সমস্যা কমাতে নিয়মিত ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি। ঘরেই বাদাম তেল, নারিকেল তেল ও মৌমাছির মোম দিয়ে তৈরি করা যায় লিপ বাম। এটি ঠোঁট নরম রাখতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই তা সবার জন্য নিরাপদ হবে, এমন নয়। তাই ঘরে তৈরি লিপ বাম ব্যবহারের সময়ও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ঠোঁটের যত্নে বাদাম ও নারিকেল তেল কেন উপকারী?

নারিকেল তেল শুষ্ক ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাদাম তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। মৌমাছির মোম ঠোঁটের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা হারানোর পরিমাণ কমাতে পারে।

নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁটের শুষ্কতা ও খসখসে ভাব কমতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়া, বাতাস ও ঘরের শুষ্ক পরিবেশে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে।

তবে এই বাম ঠোঁটের স্বাভাবিক রং স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে বা ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করতে পারে না।

ঘরে যেভাবে তৈরি করবেন লিপ বাম

বাদাম ও নারিকেলের তেল দিয়ে সহজেই ঘরে লিপ বাম তৈরি করা যায়। এ জন্য প্রয়োজন হবে—

১ চা চামচ প্রসাধনী ব্যবহারের উপযোগী মিষ্টি বাদাম তেল

১ চা চামচ নারিকেল তেল

১ চা চামচ মৌমাছির মোমের দানা

সংরক্ষণের জন্য একটি পরিষ্কার ও শুকনো পাত্র

তৈরির পদ্ধতি:

প্রথমে একটি তাপসহনশীল বাটিতে বাদাম তেল, নারিকেল তেল ও মৌমাছির মোম নিন। এরপর বাটিটি গরম পানির ওপর বসিয়ে হালকা তাপে উপকরণগুলো গলিয়ে নিন। সরাসরি আগুনে বেশি তাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন।

সব উপকরণ গলে গেলে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন। এরপর সাবধানে মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার ও শুকনো ছোট পাত্রে ঢালুন। ঠান্ডা হয়ে শক্ত হওয়া পর্যন্ত পাত্রটি স্থির রাখুন। পুরোপুরি ঠান্ডা হলে ঢাকনা বন্ধ করে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করুন।

লিপ বাম বেশি শক্ত হলে পরেরবার মোমের পরিমাণ সামান্য কমানো যেতে পারে। আবার বেশি নরম হলে মোমের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো যায়।

কতবার ব্যবহার করবেন?

ঠোঁট শুষ্ক মনে হলে অল্প পরিমাণ লিপ বাম লাগাতে পারেন। বিশেষ করে মুখ ধোয়ার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করলে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগেও এটি ব্যবহার করা যায়।

এ ছাড়া ঠোঁট বারবার চাটা বা কামড়ানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। লালার সংস্পর্শে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ঠোঁটের খোসা জোর করে টেনে তোলা বা ঘষাঘষি করাও ঠিক নয়। এতে ত্বকে ক্ষত ও জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে।

লিপ বাম ব্যবহারে যেসব সতর্কতা জরুরি

বাদামে অ্যালার্জি থাকলে বাদাম তেলযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করবেন না। এ ক্ষেত্রে বাদাম তেলের পরিবর্তে উপযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। ত্বকের জন্য তৈরি নয়, এমন তেল ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকুন।

লিপ বাম ব্যবহারের পর চুলকানি, লালচে ভাব, ফোলাভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট জায়গায় অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে এতে অ্যালার্জি হবে না—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

ঘরে তৈরি লিপ বামে পানি মেশাবেন না। পরিষ্কার ও শুকনো পাত্র ব্যবহার করুন এবং ভেজা বা অপরিষ্কার আঙুল দিয়ে বাম নেওয়া এড়িয়ে চলুন। এতে পণ্যটি দূষিত হওয়ার ঝুঁকি কমে। যেহেতু ঘরে তৈরি এই বামে পরীক্ষিত সংরক্ষণব্যবস্থা থাকে না, তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করুন। গন্ধ, রং বা গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে তা ফেলে দিন।

নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের ফাটাভাব না কমলে, রক্তপাত হলে বা ব্যথা ও প্রদাহ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন