কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে রোগী অজ্ঞান হলে কী করবেন
ডেইলি সান রিপোর্ট, লাইফস্টাইল
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দিতে পারে। এতে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়। রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া বন্ধ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক বিষয় নয়। হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃদ্যন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তবে হার্ট অ্যাটাক থেকেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।
রোগী অজ্ঞান হলে কী করবেন?
বুকে ব্যথা বা অস্বস্তির পর কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা সাড়া না দিলে দ্রুত তাঁর অবস্থা যাচাই করতে হবে। রোগী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না, তা দেখুন। শুধু হাঁপানোর মতো অনিয়মিত শ্বাসকে স্বাভাবিক শ্বাস মনে করা যাবে না।
রোগী সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে বা শুধু হাঁপানোর মতো শ্বাস নিলে দ্রুত জরুরি সেবায় ফোন করুন। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে কল করা যায়। আশপাশে কেউ থাকলে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার দায়িত্ব দিন। সম্ভব হলে অন্য কাউকে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) আনতে বলুন।
যেভাবে দেবেন সিপিআর
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সন্দেহ হলে দ্রুত সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন শুরু করা জরুরি। এর মাধ্যমে বুকের ওপর চাপ দিয়ে হৃদ্যন্ত্রের কাজের বিকল্প হিসেবে শরীরে রক্ত চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
সিপিআর দেওয়ার সময় রোগীকে শক্ত ও সমতল জায়গায় চিত করে শোয়ান। এরপর বুকের ঠিক মাঝখানে, বুকের হাড়ের ওপর এক হাতের তালু রাখুন। অন্য হাতটি তার ওপর রেখে আঙুলগুলো জড়িয়ে নিন। হাত সোজা রেখে জোরে ও দ্রুত বুকের ওপর চাপ দিন।
প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার চাপ দিতে হবে। প্রতিবার চাপ দেওয়ার পর বুককে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে দিন। বুক প্রায় ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার নিচে নামবে—এমনভাবে চাপ দিতে হবে।
সিপিআর দেওয়ার প্রশিক্ষণ না থাকলে শুধু বুকের ওপর চাপ দেওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং জরুরি সেবার কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলুন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে বুকের চাপের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম শ্বাসও দেওয়া যায়।
কেন এক সেকেন্ডও গুরুত্বপূর্ণ?
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দ্রুত সিপিআর শুরু না করলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে জরুরি সহায়তা ডাকার পাশাপাশি দ্রুত সিপিআর শুরু করা প্রয়োজন।
এইডি পাওয়া গেলে যন্ত্রটির নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যবহার করতে হবে। এটি হৃদ্যন্ত্রের বিপজ্জনক ছন্দ শনাক্ত করে প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব কিংবা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত হতে পারে। এসব লক্ষণকে শুধু গ্যাস বা বদহজম ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবারের সদস্যদের সিপিআর দেওয়ার পদ্ধতি শিখে রাখা এবং জরুরি সহায়তার নম্বর জানা থাকলে বিপদের সময় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।

