আগেভাগে টিকিট না কাটলে এমন ভিড়ে পড়তে হতে পারে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বিজিএমইএ জানিয়েছে, পোশাক খাতের শ্রমিকেরাও সাপ্তাহিক ছুটিসহ চার দিন ছুটি পাবেন। এ সুযোগে অনেকেই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে পারেন। ফলে চন্দ্রা, টঙ্গী, কাঁচপুর ও গাবতলীর মতো প্রবেশ ও বহির্গমন পথে তীব্র জটের আশঙ্কা রয়েছে। ভোগান্তি এড়াতে ছয়টি পরামর্শ রইল।
১. আগেভাগে টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা
ছুটির দিন বা তার আগের দিন কাউন্টারে গিয়ে টিকিটের আশা করা বোকামি। ট্রেন, বাস বা লঞ্চ—যে মাধ্যমেই যান না কেন, টিকিট কেটে রাখুন এখনই।
কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট পোর্টাল কিংবা নির্ভরযোগ্য অনলাইন বাস টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে এখনই টিকিট নিশ্চিত করুন।
যারা এই ছুটিতে কক্সবাজার, সিলেট বা সাজেক বেড়াতে যাচ্ছেন, তারা যাওয়ার আগেই রুম বুকিং কনফার্ম করুন। শেষ মুহূর্তে বুকিং না পেলে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হতে পারে।
২. যাত্রার সময় বদলান
সবাই যখন একসাথে অফিস শেষ করে বা ছুটির প্রথম দিন সকালে ঢাকা ছাড়ে, তখনই মহাসড়কগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। ভিড় এড়াতে গতানুগতিক সময়ের বাইরে চিন্তা করুন:
ছুটির আগের দিন সন্ধ্যার পর রওনা না হয়ে, ভোরবেলা বা মাঝরাতের পরের ট্রিপগুলো বেছে নিন। এই সময়ে সাধারণত হাইওয়েতে গাড়ির চাপ কম থাকে।
সম্ভব হলে মূল ছুটি শুরু হওয়ার একদিন আগে হাফ-ডে বা ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। অথবা ছুটির প্রথম দিন পার করে দ্বিতীয় দিন একটু বেলার দিকে রওনা দিন।
৩. রওনা দেওয়ার আগে ট্রাফিক দেখুন
ঢাকার প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলো (যেমন: গাবতলী, সাভার, চন্দ্রা, যাত্রাবাড়ী বা কাঁচপুর) ছুটির শুরুতে তীব্র জ্যামের কবলে পড়ে।
রওনা হওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে গুগল ম্যাপে আপনার রুটের ট্রাফিক কন্ডিশন (লাল, হলুদ বা সবুজ সংকেত) দেখে নিন।
মূল মহাসড়কে বড় কোনো জ্যাম থাকলে কোন বাইপাস সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব, তা আগে থেকেই ম্যাপে দেখে রাখুন।
-6acf68b2a1750.jpg)
৪. হালকা প্যাকিং, সঙ্গে জরুরি রসদ
হাইওয়েতে দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশু, নারী ও বয়স্করা। পর্যাপ্ত খাবার পানি, ওআরএস স্যালাইন, বিস্কুট, খেজুর বা হালকা শুকনো খাবার হাতের কাছের ব্যাগে রাখুন। বমি, গ্যাস্ট্রিক, মাথা ব্যথা, প্রেশার এবং মোশন সিকনেসের ওষুধ অবশ্যই সাথে রাখবেন।
ল্যাগেজের সংখ্যা যথাসম্ভব কমান। ব্যাকপ্যাক বা চাকাযুক্ত ট্রলি ব্যাগ ব্যবহার করুন, যেন জ্যামের মাঝে প্রয়োজনে হেঁটে কিছুটা পথ পার হতে হলেও কষ্ট না হয়।
৫. নিজস্ব যানবাহনের ‘ফিটনেস’ যাচাই
যারা নিজস্ব গাড়ি (কার, মাইক্রোবাস) বা মোটরসাইকেল নিয়ে হাইওয়েতে দূরপাল্লার যাত্রা করবেন, তারা শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে আজই মেকানিকের মাধ্যমে গাড়ি পরীক্ষা করুন। ইঞ্জিনের মবিল, ব্রেক ফ্লুইড, কুল্যান্টের মাত্রা এবং টায়ারের প্রেশার (স্পেয়ার টায়ারসহ) ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করুন। হাইওয়েতে চলার জন্য গাড়ির সব বৈধ কাগজপত্র (ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন) সাথে নিতে ভুলবেন না।
৬. ফাঁকা বাসার নিরাপত্তা
বাড়ি ফেরার আনন্দের আতিশয্যে শহরের বাসার নিরাপত্তার কথা ভুলে গেলে চলবে না। ঢাকা ছাড়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে এই কাজগুলো অবশ্যই করবেন-
ঘরের সব সিলিন্ডারের রেগুলেটর এবং মেইন পানির ভালভ শক্ত করে বন্ধ করুন। রেফ্রিজারেটর ছাড়া বাকি সব ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লায়েন্সের (টিভি, রাউটার, ওভেন, এসি) প্লাগ সকেট থেকে খুলে রাখুন। মেইন দরজার তালাগুলো ডাবল চেক করুন। সম্ভব হলে ভবনের সিকিউরিটি গার্ডকে আপনি কতদিন অনুপস্থিত থাকবেন তা জানিয়ে যান।
উৎসবের টানা ৫ দিনের এই দীর্ঘ ছুটি পরিবারকে কোয়ালিটি টাইম দেওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ। সামান্য একটু আগাম পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং সচেতনতাই পারে আপনার এই ভ্রমণকে ক্লান্তিহীন, নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে। সবার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক