গোসল করার সঠিক সময় কোনটি?
যাঁরা দিনভর চনমনে থাকতে চান, তাঁদের জন্য সকালের গোসল বেশ জনপ্রিয়
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
গোসলের সময় বেছে নিন লাইফস্টাইল ও ত্বক অনুযায়ী। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী—সবারই দৈনিক রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ হলো গোসল। তবে এই গোসলের সময় নিয়ে একেক জনের পছন্দ একেক রকম।
কেউ ঘুম থেকে উঠে একদম ফ্রেশ হয়ে দিন শুরু করতে সকালে গোসল করেন, কেউ দুপুরে বা অফিস-ক্লাস শেষে সন্ধ্যায়, আবার কেউ সারাদিনের ক্লান্তি ধুয়ে বিছানায় যাওয়ার আগে রাতে গোসল করতে পছন্দ করেন।
কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য গোসল করার আসলে সঠিক সময় কোনটি? ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গোসল করলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় কি না, নাকি রয়েছে আলাদা উপকারিতা?
সকালে গোসলের উপকারিতা
যাঁরা দিনভর চনমনে থাকতে চান, তাঁদের জন্য সকালের গোসল বেশ জনপ্রিয়।
সকালে গোসল করলে ঘুম ঘুম ভাব ও আলসেমি দূর হয়। শীতল বা কুসুম গরম জল শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক কর্মক্ষমতা ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া, ঘুমের মধ্যে ত্বক যে অতিরিক্ত তেল ও ঘাম নিঃসরণ করে, তা পরিষ্কার হয়ে যায়। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের জন্য সকালের গোসল সবচেয়ে উপকারী।
সকালে গোসল করলে সারাদিনের জমে থাকা ধুলাবালি ও জীবাণু নিয়ে রাতে বিছানায় যেতে হয়, যা বিছানার চাদরকে দ্রুত নোংরা করে।
দুপুরে বা সন্ধ্যায় গোসলের কার্যকারিতা
সাধারণত স্কুল-কলেজ বা অফিস থেকে ফিরে অনেকেই দুপুরে বা বিকেলে গোসল করেন।
বাইরে থেকে ফেরার পর শরীরের ক্লান্তি ও ধুলাবালি দূর করার জন্য এটি উপযুক্ত সময়। এটি শরীরকে শীতল করে এবং দুপুরের ক্লান্তি দূর করে বিকেল বা সন্ধ্যার কাজের জন্য নতুন শক্তি দেয়।
ভরপেট দুপুরের খাবার খাওয়ার পরপরই গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি পরিপাক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যার ফলে গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাতে গোসলের উপকারিতা
দিনশেষে প্রশান্তির জন্য অনেকেই রাতের গোসল বেছে নেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে হালকা গরম জলে ১০ মিনিট গোসল করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমে আসে। এটি মস্তিষ্ককে দ্রুত ঘুমানোর সংকেত পাঠায়, ফলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়ে গভীর ঘুম আসে। এ ছাড়া সারাদিনের দূষণ, অ্যালার্জেন ও ঘাম পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় ত্বক ভালো থাকে।
রাতে ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে একদম ঠান্ডা জলে গোসল করলে উল্টো ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়া ভেজা চুলে ঘুমালে ঠান্ডা লাগা এবং চুলে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।
কোন সময়ে গোসল করলে ক্ষতি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের সময় নিজে থেকে কোনো বড় ক্ষতি করে না, তবে কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে সমস্যা হতে পারে:
যেকোনো ভারী খাবার খাওয়ার সাথে সাথে গোসল করলে রক্ত সঞ্চালন পাকস্থলী থেকে ত্বকের দিকে চলে যায়, যা হজমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়।
জিম বা কায়িক পরিশ্রমের পর শরীর প্রচণ্ড গরম থাকে। এই অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে ঠান্ডা জল মাথায় ঢাললে রক্তচাপের হঠাৎ তারতম্য হতে পারে। একটু জিরিয়ে নিয়ে গোসল করা উচিত।
দিনে একাধিকবার সাবান বা ক্ষারযুক্ত উপাদান দিয়ে গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়।
সঠিক সময় কোনটি?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসল করার কোনো নির্দিষ্ট ‘একমাত্র সঠিক সময়’ নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তির লাইফস্টাইল, কাজের ধরন ও ত্বকের প্রকৃতির ওপর।
যাঁরা মাঠে ঘাটে কাজ করেন বা বাইরে বেশি যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য রাতের গোসল শ্রেয়। আর যাঁরা সকালে সহজে জাগতে পারেন না বা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী, তাঁদের জন্য সকালের গোসলই সেরা।
তবে অনুজীববিজ্ঞানীদের মতে, গোসল যখনই করুন না কেন, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ধুয়ে পরিষ্কার রাখা জরুরি।