ডায়াবিটিস ও ওজন কমাতে ব্লাক কফি না গ্রিন টি, কোনটি বেশি উপকারী?
ডেইলি সান রিপোর্ট, লাইফস্টাইল
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২ এএম
সকালের শুরুতে এক কাপ গরম পানীয় অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কেউ পছন্দ করেন ব্লাক কফি, কেউ আবার গ্রিন টি। দুই পানীয়েরই কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। তবে ওজন কমানো কিংবা ডায়াবিটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কোনটি বেশি উপকারী—এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
চিনি ও দুধ ছাড়া ব্লাক কফি এবং গ্রিন টি দুটিই তুলনামূলক কম ক্যালোরির পানীয়। পাশাপাশি দুটিতেই রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তবে নিয়মিত পান করার আগে শরীরের অবস্থা ও ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
ব্লাক কফির উপকারিতা
ব্লাক কফিতে থাকা ক্যাফিন সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে পারে। ক্যাফিন বিপাকীয় হারেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ব্যায়ামের আগে কফি পান করলে শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে।
কফিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে কফি ডায়াবিটিসের চিকিৎসা নয়।
গ্রিন টি কেন উপকারী?
গ্রিন টিতে ক্যাটেকিন নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে। এর মধ্যে ইজিসিজি (EGCG) অন্যতম। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু গবেষণায় গ্রিন টি পানকারীদের রক্তে শর্করার মাত্রায় সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিসে গ্রিন টি উপবাসের রক্তে শর্করা সামান্য কমাতে পারে বলে দেখা গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সূচক HbA1c-এর ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রমাণ এখনও নিশ্চিত নয়।
ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে কোনটি?
দুধ-চিনি ছাড়া ব্লাক কফি ও গ্রিন টি—দুটিই চিনি-যুক্ত পানীয়ের তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে কোনো পানীয়কেই ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।
গ্রিন টি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় রক্তে শর্করা ও ইনসুলিন প্রতিরোধের ওপর সম্ভাব্য উপকারের কথা বলা হয়েছে। তবে গবেষণার ফল সব ক্ষেত্রে এক নয়।
অন্যদিকে, কফি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও ক্যাফিন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
ওজন কমাতে কোনটি?
ব্লাক কফি ও গ্রিন টি—দুটিতেই ক্যাফিন রয়েছে, যা সাময়িকভাবে বিপাকীয় হারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু এই দুই পানীয় পান করলেই উল্লেখযোগ্য ওজন কমবে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
গ্রিন টি নিয়ে করা গবেষণায় ওজন কমানোর সম্ভাব্য প্রভাব সাধারণত ছোট এবং সব গবেষণায় তা পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে সাধারণ এক কাপ গ্রিন টি এবং ঘন গ্রিন টি-নির্যাসের ফল এক করে দেখা ঠিক নয়।
ব্যায়ামের আগে ব্লাক কফির ক্যাফিন শরীরকে কিছুটা চাঙা রাখতে পারে। তবে ওজন কমানোর মূল উপায় হলো সুষম খাবার, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম।
তাহলে কোনটি খাবেন?
দুধ ও চিনি ছাড়া হলে দুটিই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। ক্যাফিনের প্রভাব ব্যক্তি ভেদে আলাদা হওয়ায় নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়াও খেয়াল রাখা দরকার।
ডায়াবিটিস থাকলে শুধু কফি বা গ্রিন টি দিয়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার, ব্যায়াম ও ওষুধের পরিকল্পনা মেনে চলা উচিত। আর ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও কোনো একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।