বাসের হেলপাররা রিকশাকে কেন ‘টেসলা’ বলেন
জ্যামের ফাঁক গলে চলার দক্ষতা দেখেই রিকশার এই নাম দিয়েছেন হেলপাররা
জ্যামের ফাঁক গলে এগিয়ে যাচ্ছে রিকশা, বাসের হেলপারদের ভাষায় যার নাম ‘টেসলা’। ছবি: রাশেদ সুমন
ঢাকার যানজটে চলন্ত বাসের গেটে ঝুলে হেলপার চেঁচিয়ে ওঠেন, ‘ওস্তাদ, ডাইনে চাপেন, বামে টেসলা!’ আশপাশের যাত্রীরা ভড়কে যান, কারণ সামনে আসলে কোনো টেসলা গাড়ি নেই। আছে হুড তোলা সাধারণ একটি রিকশা।
বাসের হেলপার ও চালকেরা রিকশাকে ডাকেন ‘টেসলা’। এর পেছনে আছে রিকশাচালকদের দক্ষতা নিয়ে রসিকতা আর সড়কের বাস্তব হিসাব।
যে কারণে নাম টেসলা
টেসলা গাড়ি পরিচিত অটোপাইলট ও স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশনের জন্য। হেলপার ও চালকদের মতে, ঢাকার রিকশাচালকেরাও তেমনই। দুই বাসের মাঝে যে ফাঁক থাকে, তা এত সরু যে সেখান দিয়ে মানুষ হাঁটাও কঠিন। রিকশাচালকেরা সেই ‘চিপা’ গলেই রিকশা বের করে নেন। এই দক্ষতা দেখে কৌতুকের ছলে রিকশার নাম হয়েছে ‘টেসলা’।
আরেকটি কারণও বলা হয়। সাম্প্রতিক বছরে ঢাকায় প্যাডেলচালিত রিকশার চেয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেড়েছে। এসব রিকশা প্রায় নিঃশব্দে বাসের পাশ কেটে বেরিয়ে যায়। বাসচালকদের কাছে তখন সেটিকে ‘দেশি টেসলা’ মনে হয়।
প্লাস্টিক আর টেসলা
বাসের হেলপারদের ভাষায় ঢাকার সড়কের নিজস্ব শ্রেণিবিন্যাস আছে। দামি প্রাইভেট কার ‘প্লাস্টিক’। এর ফাইবার বডিতে সামান্য আঁচড় পড়লেও মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। আর রিকশা ‘টেসলা’।
বাসের লোহার বডির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে রিকশা উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হেলপাররা বলেন, রিকশার সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগলেও ট্রাফিক পুলিশ বা সাধারণ মানুষ বাসচালককে চেপে ধরেন। তাই ওস্তাদকে সাবধান করতে দূর থেকেই সংকেত দেন, ‘ওস্তাদ, ডাইনে টেসলা, চামে কাটেন!’ এর মানে, ডানে রিকশা আছে, গা বাঁচিয়ে ফাঁক দিয়ে বাস বের করুন।
কেন এই ভাষা
হেলপার ও চালকদের বড় অংশ আসেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। জ্যামের কোলাহল আর হর্নের শব্দে দীর্ঘ বাক্যে কথা বলার সুযোগ নেই। চালকের কানে দ্রুত সঠিক বার্তা পৌঁছাতে তাই তাঁরা নিজেদের মতো করে একটি ভাষা গড়ে নিয়েছেন।
রিকশা একসময় শুধু রিকশা বা সাইকেলই ছিল। এখন মুখে মুখে সেটি টেসলা। এটি কেবল সাংকেতিক শব্দ নয়, চালকদের কঠিন ও একঘেয়ে জীবনের ভেতরে এক চিলতে রসবোধও।
আইন বা নিয়মের তোয়াক্কা না করলেও এই মেঠো শব্দ প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকার সড়কে তাই শোনা যায়, ‘ওস্তাদ, গতি কমান, সামনে টেসলার জটলা!’