খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটার ৭ উপকারিতা
খাবারের পর সোফায় বসে না থেকে ১০ মিনিট হাঁটলে মিলবে সুগার নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক শারীরিক সুফল
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটাই সুগার নিয়ন্ত্রণ ও হজমশক্তি বাড়ানোর সহজ উপায়।
দুপুর বা রাতের প্রধান খাবারের পর সোফায় বসে থাকা বা শুয়ে পড়া অনেকের চেনা অভ্যাস। কিন্তু গবেষণা বলছে, খাবারের পর মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটা শরীরকে ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক ও অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
পুষ্টিবিজ্ঞান ও স্লিপ মেডিসিনের আধুনিক গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য ভারী কসরত বা জিমের প্রয়োজন নেই, খাবার শেষ করার পরপরই আরামদায়ক গতিতে কয়েক মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট।
খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটার ৭টি সুফল
১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। এই সময় ১০ মিনিট হাঁটলে পেশি সেই বাড়তি গ্লুকোজ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ফেলে। ফলে রক্তে শর্করার ক্ষতিকর ওঠানামা বা ‘সুগার স্পাইক’ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতি কমানো: একটানা বসে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। খাবারের পর হাঁটলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ে, যা মেদ জমার প্রক্রিয়া রুখে দেয়।
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি পোড়ানো: হাঁটার মাধ্যমে শরীর অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়ায়। দিনে তিন বেলার খাবারের পর ১০ মিনিট করে মোট ৩০ মিনিট হাঁটলে বাড়তি ডায়েটের চাপ ছাড়াই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মেলে।
৪. হজমের গতি বৃদ্ধি: খাবারের পর হালকা হাঁটাচলা পাকস্থলী ও অন্ত্রের চলন সচল রাখে, যা খাবার দ্রুত পরিপাক হতে সাহায্য করে। ফলে পেট ভার হয়ে থাকা বা অস্বস্তির অনুভূতি কমে যায়।
৫. অ্যাসিড রিফ্লাক্স হ্রাস: খাবার খেয়েই শুয়ে পড়লে অভিকর্ষজ বলের কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালী বেয়ে ওপরে ওঠে, যাকে ‘জিইআরডি’ বলা হয়। শরীর সোজা রেখে ১০ মিনিট হাঁটলে এই সমস্যা কমে।
৬. দুপুরের ঝিমুনি দূর: দুপুরের খাবারের পর মস্তিষ্কে যে ঝিমুনি আসে, ১০ মিনিট হাঁটলে মগজে অক্সিজেনের প্রবাহ বেড়ে তা কমে যায়। বিশেষত অফিসগামীদের জন্য এটি কার্যকর।
৭. দৈনিক ৩০ মিনিটের কোটা পূরণ: একবারে ১ ঘণ্টা হাঁটার দরকার নেই। সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের পর ১০ মিনিট করে ভাগ করে নিলে সহজেই দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটার লক্ষ্য পূরণ হয়।
খাবারের পর কখন ও কীভাবে হাঁটবেন
খাবার শেষ করার পর বেশি দেরি না করে দ্রুত হাঁটা শুরু করা উচিত, কারণ খাবার রক্তে মেশার মুহূর্তেই পেশি সচল করা সুগার নিয়ন্ত্রণের সেরা কৌশল। তবে খাবারের পরপরই দৌড়ানো, জগিং বা ভারী ব্যায়াম করা যাবে না—এতে পরিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়ে পেটে ব্যথা হতে পারে। শুধু আরামদায়ক গতিতে স্বাভাবিক হাঁটাই যথেষ্ট। হাঁটার সময় পেটে অস্বস্তি বা মোচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে গতি কমিয়ে দিতে হবে। প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস থাকলে ইনসুলিন ও ওষুধের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসকের পরামর্শে হাঁটার সময় ঠিক করা উচিত।