EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে দিনভর ঝিমোচ্ছেন, জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায়

খেলা দেখার আনন্দ যেন আপনার অসুস্থতার কারণ না হয়; জেনে নিন ফুটবল মৌসুমে শরীর সতেজ রাখার কিছু জরুরি পরামর্শ

জীবনযাপন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১১ এএম

রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে দিনভর ঝিমোচ্ছেন, জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায়

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চলছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই। আর এই বিশ্বযুদ্ধের আঁচ লেগেছে প্রতিটি বাঙালি পরিবারেও। প্রিয় দলের খেলা দেখতে গিয়ে দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর রাতের ঘুম উধাও। কেউ খেলা দেখছেন রাত ১২টায়, কেউবা ভোররাতে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে পরদিন কর্মক্ষেত্রে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে দিনভর ঝিমুনি, মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং কাজে মনোযোগ না পাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই।

খেলা দেখার এই তুমুল আনন্দের মাঝে নিজের শরীরকে কীভাবে ফিট ও কর্মক্ষম রাখবেন? চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী জেনে নিন সুস্থ থাকার সহজ কিছু উপায়-

রাতে যেহেতু টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই দুপুরের বিরতিতে বা কাজের ফাঁকে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটের একটি ‘পাওয়ার ন্যাপ’ বা সংক্ষিপ্ত ঘুম দিতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুপুরের এই ছোট্ট ঘুম বা ঝিমুনি মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করে এবং কর্মক্ষমতা এক লহমায় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে মনে রাখবেন, এই ঘুম যেন কোনোভাবেই ৩০ মিনিটের বেশি না হয়।

অনেকেই রাত জাগার জন্য বা পরদিন অফিসে ঝিমুনি কাটাতে কাপের পর কাপ চা বা কফি পান করেন। ক্যাফেইন সাময়িক ক্লান্তি দূর করলেও এটি শরীরকে ডিহাইড্রেটেড (পানির শূন্যতা) করে ফেলে এবং পরবর্তী রাতের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রকে আরও নষ্ট করে। অতিরিক্ত কফির বদলে লেবু পানি, ডাবের পানি বা গ্রিন টি পানের অভ্যাস করুন।

রাত জাগলে এবং পরদিন ঘুম কম হলে শরীরে ক্লান্তি আসার অন্যতম বড় কারণ হলো ডিহাইড্রেশন। তাই দিনভর এবং খেলা দেখার সময় টেবিলে পানির বোতল রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, যা ক্লান্তি ভাব দূর করতে এবং মাথা সতেজ রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।

রাত জেগে খেলা দেখার সময় চিপস, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড খাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, রাত জাগলে এমনিতেই হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ওপর ভারী খাবার খেলে পরদিন অলসতা ও ঝিমুনি আরও বাড়ে। তাই খেলা দেখার সময় ক্ষুধা লাগলে শসা, বাদাম, মাখনা বা ফলের মতো হালকা ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স বেছে নিন।

সারা সপ্তাহের ঘুমের এই ঘাটতি বা ‘স্লিপ ডেট’ পুষিয়ে নিতে ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগান। ছুটির দিনে কোনো দরকারি কাজ না থাকলে একটু বাড়তি সময় ঘুমান। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকবে এবং আগামী সপ্তাহের রাত জাগার ধকল সামলানোর শক্তি পাওয়া যাবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ চার বছর পর পর আসে, কিন্তু আপনার সুস্থতা প্রতিদিনের। তাই উন্মাদনার মাঝেও শরীরের সংকেত বোঝার চেষ্টা করুন। যদি শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে, তবে জোর করে রাত না জেগে পরের দিন হাইলাইটস দেখে নেওয়ার মানসিকতাও রাখা জরুরি। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে উপভোগ করুন বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত!

আরও পড়ুন