বর্ষাকালে সুস্থ থাকার উপায়
আষাঢ়ের বৃষ্টিতে সুস্থ থাকতে খাওয়া-দাওয়া, বিশুদ্ধ পানি ও মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে জরুরি কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতা
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ শেষে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। আষাঢ়ের এই দিনগুলোতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে তপ্ত গরমে বৃষ্টির এই রিমঝিম শব্দ মনে স্বস্তি আনলেও, বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া সাথে করে নিয়ে আসে নানা রোগব্যাধি। এই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, টাইফয়েড ও পেটের সমস্যার মতো নানা মৌসুমী রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাই বৃষ্টি-বাদলার এই দিনগুলোতে নিজে এবং পরিবারকে সুস্থ রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।
বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়ে যেকোনো উৎস থেকে সরাসরি পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। সবসময় পানি অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে ফিল্টার করে পান করুন। রাস্তাঘাটের খোলা খাবার বা কাটা ফল খাওয়া একদম বন্ধ করতে হবে। এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল এবং ঘরে তৈরি গরম ও তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা বর্ষাকালের সাধারণ চিত্র। আর এই জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই বংশবিস্তার করে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। তাই ঘরের আনাচ-কানাচ, ফুলের টব, ছাদ বা বারান্দায় যেন কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন এবং মশা তাড়ানোর নিরাপদ উপায় অবলম্বন করুন।
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া বর্ষাকালে খুব স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘসময় ভেজা কাপড়ে থাকলে ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি বা নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজলে যত দ্রুত সম্ভব ঘরে ফিরে পরিষ্কার ও শুকনো কাপড় চিপে গা ধুয়ে ফেলুন। চুল ভালোমতো শুকিয়ে নিন এবং হালকা গরম পানি বা আদা-লেবু চা পানের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সবসময় শরীর শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। বাইরে থেকে ফিরলে সাবান দিয়ে হাত-পা ভালো করে ধুয়ে নিন। ভেজা জুতো বা মোজা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকবেন না, কারণ এটি জীবাণুর প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র।