সেহরির পর বেশি সময় ঘুমালে কী ঘটে শরীরে?
চিকিৎসকদের মতে, সেহরির পরপরই দীর্ঘক্ষণ ঘুমানোর এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শেষ রাতে সেহরি খেয়ে রোজা রাখার প্রস্তুতি নেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সেহরি খাওয়ার পরপরই অনেকে গভীর ঘুমে তলিয়ে যান।
চিকিৎসকদের মতে, সেহরির পরপরই দীর্ঘক্ষণ ঘুমানোর এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সেহরি খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। যখন আমরা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ি, তখন পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসে। এর ফলে বুকজ্বালা, গ্যাসট্রিক এবং অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস এসিডিটির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অনেকের ধারণা, বেশি ঘুমালে সারাদিন ক্লান্তি কম লাগবে। কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টো। সেহরির পর অতিরিক্ত ঘুমালে শরীরে এক ধরনের ঝিমঝিম ভাব তৈরি হয়। এর ফলে সারাদিন কাজে অনীহা এবং অলসতা কাজ করে। এমনকি অতিরিক্ত ঘুমের কারণে দিনের বেলা মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
সেহরির পর অনেকটা সময় টানা ঘুমালে রাতের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র বাধাগ্রস্ত হয়। এতে করে রাতে সময়মতো ঘুম আসতে চায় না, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ নষ্ট করে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দিতে পারে।
সুস্থভাবে রোজা রাখতে এবং শরীরকে সচল রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন- সেহরি খাওয়ার পর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট জেগে থাকা উচিত। খাওয়ার পর ঘরেই হালকা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে, যা হজমে সহায়তা করে।সেহরির পর বিশ্রাম নিতে চাইলে ১ থেকে ২ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। একেবারে সোজা হয়ে না শুয়ে কিছুটা উঁচু বালিশ ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে অ্যাসিড রিফ্লাক্স কম হয়।
রমজানে সুস্থ থাকা ইবাদতের অন্যতম অনুষঙ্গ। তাই খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ঘুমের সময়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।