রমজানে ঘুমের সমস্যা? মেনে চলুন এই সহজ টিপসগুলো
ইবাদত ও বিশ্রামের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে রমজান মাস আরও শান্ত ও সুস্থভাবে কাটানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রমজান মাস শুরু হতেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দৈনন্দিন রুটিনে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আসে। সেহরি, তারাবি এবং রাতের ইবাদতের কারণে ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়। এর ফলে অনেকের মধ্যেই অনিদ্রা, সারাদিন ঝিমুনি বা অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার কিছু ভুল অভ্যাসের কারণেই মূলত এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘদিনের নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস ভেঙে সেহরির জন্য গভীর রাতে উঠতে হয় এবং তারাবির কারণে ঘুমাতে দেরি হয়। এতে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ বা ‘বডি ক্লক’ বিঘ্নিত হয়।
ইফতারে অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার খেলে হজমে সমস্যা ও বুকজ্বালা তৈরি হয়, যা রাতে গভীর ঘুমে বাধা দেয়। ইফতার বা রাতের খাবারের পর চা-কফি পানের অভ্যাস স্নায়ুকে উত্তেজিত রাখে, ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না।
রাতের ইবাদত বা সেহরির আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা টিভি দেখলে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, যা ঘুমের মান কমিয়ে দেয়। রাতের ঘাটতি পূরণে দিনে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে পুনরায় ঘুমের চক্র নষ্ট হয়ে যায়।
সুস্থ থাকতে যা করবেন
রমজানের শুরু থেকেই ঘুমানো ও জাগার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। সেহরির আগে পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য রাতে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
ইফতারে ভাজাপোড়া এড়িয়ে ফল, সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করুন। ইফতারের পর চা-কফি এড়িয়ে হারবাল চা বা হালকা গরম দুধ পান করা যেতে পারে।
ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস (মোবাইল, টিভি) থেকে দূরে থাকুন। ক্লান্তি দূর করতে দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ঘুম (পাওয়ার ন্যাপ) নেওয়া যেতে পারে, তবে তা যেন দীর্ঘ না হয়।
ইবাদত ও বিশ্রামের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে, রমজান মাস আরও শান্ত ও সুস্থভাবে কাটানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।