EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

শরীরে বেশি শীত অনুভূত হয় যে ভিটামিনের অভাবে

ডেইলি সান রিপোর্ট, জীবনযাপন

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

শরীরে বেশি শীত অনুভূত হয় যে ভিটামিনের অভাবে

প্রতীকী ছবি

অ অ

অনেকেই অভিযোগ করেন, শীতকাল তো বটেই—এমনকি স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও তাদের সব সময় ঠান্ডা লাগে। হাত-পা ঠান্ডা থাকে, শরীর দুর্বল লাগে এবং বারবার কাঁপুনি অনুভূত হয়। চিকিৎসকদের মতে, এমন সমস্যার পেছনে অনেক ক্ষেত্রে দায়ী থাকে শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভিটামিন বি–১২-এর অভাব।

কেন ভিটামিন বি–১২-এর ঘাটতিতে শীত বেশি লাগে?

ভিটামিন বি–১২ শরীরে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লাল রক্তকণিকাগুলোই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন পরিবহন করে। কিন্তু শরীরে ভিটামিন বি–১২-এর ঘাটতি হলে লাল রক্তকণিকা সঠিকভাবে তৈরি হতে পারে না। এর ফলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।

রক্তে অক্সিজেন পরিবহন কমে গেলে শরীরের কোষগুলো পর্যাপ্ত শক্তি পায় না। এতে হাত-পা ঠান্ডা লাগা, সারাক্ষণ দুর্বলতা অনুভব করা এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শীত অনুভূত হওয়া শুরু হয়। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি চলতে থাকলে স্নায়ুজনিত সমস্যাও তৈরি হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন।

কোন কোন ঘাটতিতেও শীত বেশি লাগে?

ভিটামিন বি–১২ ছাড়াও শরীরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতিতে অতিরিক্ত শীত অনুভূত হতে পারে। আয়রনের ঘাটতি রক্তস্বল্পতা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে পেশি দুর্বল হয় এবং ঠান্ডা সংবেদন বেড়ে যায়। আবার থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে, যাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়, তখন শরীরের তাপ উৎপাদন কমে যায় এবং মানুষ সহজেই ঠান্ডা অনুভব করে।

কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?

চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে তা শরীরের ভেতরের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। যেমন—হাত ও পা সব সময় ঠান্ডা থাকা, দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়া। এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন বি–১২, আয়রন, ভিটামিন ডি ও থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা জানা সম্ভব।

খাদ্যতালিকায় নিয়মিত ডিম, দুধ, মাছ, মাংস এবং সবুজ শাকসবজি রাখলে এসব পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন