যে লক্ষণে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, জীবনযাপন
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং সামগ্রিক শারীরিক কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক শরীরে এ ভিটামিনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেকের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে নানান জটিলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বুঝে উঠতে অনেক সময়ই মানুষ ভুল করে বসেন। কারণ, এর অধিকাংশ উপসর্গই খুব সাধারণ এবং অন্য রোগের সঙ্গেও মিলে যেতে পারে। ভিটামিন ডি-র ঘাটতির প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
১. মেজাজ খারাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি
ভিটামিন ডি মস্তিষ্কের সেরোটোনিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ঘাটতিতে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, বিরক্তিভাব এবং স্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ঘুম ও খাবার গ্রহণের পরও যদি শরীরে শক্তির ঘাটতি অনুভূত হয়, তবে এটি ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
২. হাড় ও পেশিতে ব্যথা
শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এর অভাবে হাড় দুর্বল হতে থাকে। নিয়মিত পিঠ, কোমর, পা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে তা ভিটামিন ডি-এর কমতির লক্ষণ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেটস এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।
৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে। ঘন ঘন সর্দি-কাশি, ফ্লু অথবা ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ভুগলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, যাদের ভিটামিন ডি কম, তারা বিভিন্ন সংক্রামক রোগে দ্রুত আক্রান্ত হন।
৪. খিদে কমে যাওয়া ও চুল ঝরা
ভিটামিন ডি-এর অভাবে বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চুল পড়া বা চুলের গোড়ায় দুর্বলতা তৈরি হওয়াও অন্যতম লক্ষণ। বিশেষ করে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই সমস্যা আরও বাড়ে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের উপায়
- সূর্যালোক গ্রহণ: দিনের শুরুতে ১৫–২০ মিনিট রোদে থাকা ভিটামিন ডি-এর সর্বোত্তম উৎস।
- ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার: ডিমের কুসুম, দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, সামুদ্রিক মাছ (স্যামন, টুনা, সার্ডিন), মাশরুম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হবে।
- সাপ্লিমেন্ট: ঘাটতি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
- রক্ত পরীক্ষা: পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে বছরে একবার ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো উত্তম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে ভবিষ্যতে জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই সর্বোত্তম।