চীনের সানইয়ার পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘুরে দেখলেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
চীনের হাইনান প্রদেশের সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটননগরী সানইয়ায় ছয় দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ ও অঞ্চলের গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতারা অংশ নেন। সফরে তারা শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘুরে দেখেন।
১ থেকে ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ‘গো চায়না ইন সানইয়া’ শীর্ষক এ কর্মসূচি ছিল ‘হোয়াই চায়না: ডিসকভারিং সানইয়া’ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ উদ্যোগের অংশ। বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছে চীনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, আধুনিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের সম্ভাবনা তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
সানইয়া পৌর কমিটির প্রচার বিভাগের দিকনির্দেশনায় এবং সানইয়া পর্যটন উন্নয়ন ব্যুরোর আয়োজনে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে সানইয়া পৌর সাইবারস্পেস প্রশাসন। বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল চায়না নিউজ সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন গ্রুপের হাইনান শাখা।
-6aeef8964cf85.jpg)
সানইয়ার লুহুইতোউ পর্যটন এলাকায় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সানইয়া পৌর কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রচার বিভাগের প্রধান লি ইংটিং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, পাহাড়, সমুদ্র ও আধুনিক নগরজীবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সানইয়া আন্তর্জাতিক পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সানইয়ার সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার গল্প বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
ছয় দিনের সফরে প্রতিনিধিরা সানইয়ার লুহুইতোউ, থিয়ানইয়া হাইচিয়াও, দাসিয়াওদোংথিয়ান, উঝিঝৌ দ্বীপ ও ওয়েস্ট আইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রবালপ্রাচীর রক্ষা এবং শতবর্ষী জেলেপল্লির ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
ঐতিহাসিক ইয়াঝৌ প্রাচীন নগরী পরিদর্শনের সময় তারা ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, প্রাচীন সড়ক, স্থানীয় লোকসংগীত ও লি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। এ ছাড়া সানইয়া বে, দাদংহাই পর্যটন এলাকা, থিয়ানইয়া টাউন ও ফার্স্ট মার্কেট ঘুরে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি, বাজারব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হন।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সানইয়ার আধুনিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো পরিদর্শন। প্রতিনিধিরা হংঝৌ আন্তর্জাতিক ইয়ট মেরিনা, আটলান্টিস সানইয়া, সিডিএফ সানইয়া আন্তর্জাতিক শুল্কমুক্ত বিপণিবিতান এবং সানইয়া জয় সিটি ঘুরে দেখেন। এসব স্থানে তারা আন্তর্জাতিক পর্যটন, সামুদ্রিক বিনোদনশিল্প, শুল্কমুক্ত কেনাকাটা এবং পর্যটকবান্ধব সেবার সম্প্রসারণ সম্পর্কে জানতে পারেন।

সানইয়া জয় সিটিতে বিদেশি পর্যটকদের কেনাকাটা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণ সহজ করতে নেওয়া ‘পাসপোর্ট ফ্রেন্ডলি’ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।
পাশাপাশি তারা সানইয়ার আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাইনান লুজান পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউছাই পরিবেশ অঞ্চলের ডুরিয়ান ভ্যালি পরিদর্শন করেন। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পর্যটন, আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা শিক্ষা এবং কৃষিভিত্তিক পর্যটন বিকাশের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
হাইনান মুক্ত বাণিজ্যবন্দর কাঠামোর আওতায় সানইয়ার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পর্যটন খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ভিসামুক্ত প্রবেশব্যবস্থার আওতায় ৮৮টি দেশের নাগরিক সুবিধা পান। কিছু ক্ষেত্রে একজন যাত্রীর অভিবাসন প্রক্রিয়া মাত্র ৩০ সেকেন্ডে সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও জানানো হয়।
বর্তমানে সানইয়ার সঙ্গে বিদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৩৮টি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমান রুট চালু রয়েছে। এসব রুট দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও রুশভাষী অঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সানইয়া ফিনিক্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক আগমন ও বহির্গমনকারী যাত্রী চলাচল ১০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
সফরে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে চীনের উন্নয়ন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।
ছয় দিনের এ কর্মসূচি সানইয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।