‘কপ৩১’ সম্মেলনের আগে ইউএনএইচসিআর-এর সতর্কবার্তা
জলবায়ু ও যুদ্ধের দ্বিমুখী সংকটে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ
জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে আরও তহবিলের আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো তীব্র জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বাস করছেন। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জানিয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি (৯০ মিলিয়ন) জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ এমন সব দেশে বসবাস করছেন, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে দিন দিন আরও বেশি পড়ছে। যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো তীব্র জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বাস করছেন।
আসন্ন 'কপ৩১' জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের আগে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আরও বেশি তহবিলের প্রয়োজন।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের আগে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। কীভাবে যুদ্ধ-সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন একে অপরের সাথে মিশে গেছে এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইউএনএইচসিআর-এর অপারেশন্স বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার অ্যান্টন লেইস গার্সিয়ার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘‘উদ্বেগজনক ও বাস্তুচ্যুতি-কবলিত এলাকাগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন এখন টিকে থাকার লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান বিষয়। আমাদের এমন এক জলবায়ু অর্থায়নের প্রয়োজন যা সরাসরি সেইসব জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে, যেখানে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’’
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যতজন শরণার্থী নিজ দেশে ফিরেছেন, তার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিল তীব্র জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে, যা তাঁদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে।
সিরিয়ায় যেখানে সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ দেশে ফিরেছেন, সেখানে মানুষ তীব্র পানির সংকট এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে। পাশাপাশি গত মে মাসে ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর বন্যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ পুনরায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারা আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের মধ্যে একটিতে প্রতি বছর অন্তত ১০০ দিন বিপজ্জনক মাত্রার তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনসহ কয়েকটি শিবিরে এই বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ বছরে ২০০ দিনেরও বেশি স্থায়ী হতে পারে, যা হিটস্ট্রোক এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াবে।
ইউএনএইচসিআর আরও সতর্ক করেছে যে, একটি শক্তিশালী 'এল নিনো'র পূর্বাভাস অনেক শরণার্থী-আশ্রয়দানকারী দেশে জলবায়ু ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং আরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, এই বছরের শেষের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকায় প্রবল বন্যার কারণে সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং উগান্ডায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।
অন্যদিকে সাহেল অঞ্চলে খরা, বন্যা ও সংঘাতের কারণে সীমিত সম্পদের ওপর প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে এবং এশিয়ার কিছু অংশে খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইউএনএইচসিআর কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া সরকার ও জলবায়ু-অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জলবায়ু অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০ শতাংশ যুদ্ধ-সংঘাত বা ভঙ্গুর পরিস্থিতির মুখোমুখি থাকা দেশগুলোতে পৌঁছায়।
এর আগে গত বুধবার, জাতিসংঘের একটি পৃথক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ধনী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য বার্ষিক প্রয়োজনীয় ৩০৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
যদিও এর মাঝেই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাগুলো আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।