EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েল ইস্যুকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েল ইস্যুকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তার মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেক সমর্থক এবার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। এসব ভোটারের একটি বড় অংশ ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তনের পক্ষে।

গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ৪ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এ ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও নীতিমালার প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ অন্য শিবিরে চলে যাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে।

ভ্যান্স লেখেন, ‘মূল সমস্যা হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।’ এ সময় তিনি কয়েকজন নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপকারীর কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের একজন আগেই ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের ছেড়ে যাওয়া ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী করলে তাঁরা আবার দলটির সমর্থনে ফিরে আসবেন। তাঁদের উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করে চারটি প্রধান বিষয় উঠে এসেছে। এগুলো হলো—ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।

ভ্যান্স এক রক্ষণশীল মার্কিন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন। ওই ব্যক্তি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভ্যান্স লেখেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে, তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শ সঠিক ছিল। আমরা যে হেরেছি, তার কারণ এই যুদ্ধ। গত রাতে প্রেসিডেন্ট নিজেও এমনটাই বলেছেন।’

মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি। অন্যদিকে, ভ্যান্স তাঁর দীর্ঘ পোস্টে যুদ্ধের বিষয়ে এমন সমর্থন জানাননি।

বুধবার ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এ ধরনের মূল্যায়নে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে ভ্যান্স এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মূলত তাঁর আপত্তির কারণেই এপ্রিলের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ইসরায়েল।

ট্রাম্প বরাবরই ইসরায়েল ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তবে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ভ্যান্স এ বিষয়ে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। গত মাসে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জোরালো সমর্থন জানালেও ভ্যান্স তা করা থেকে বিরত ছিলেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় গত জুনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের তীব্র সমালোচনা করেন ভ্যান্স। জুলাইয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু অংশ আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।

গত মাসে ভ্যান্স আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ইসরায়েলের নীতির ‘অধীন’ হতে পারে না। বরং ওয়াশিংটনকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

আরও পড়ুন