যুদ্ধঝুঁকিতে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ২১ থেকে ৩৭ ডলারের মধ্যে ছিল
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধঝুঁকি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে ব্যাপকভাবে। অপরিশোধিত তেল পরিবহনের গড় ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার থেকে বেড়ে ২০ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ এক বছরে ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার বা প্রায় ৫৬৭ শতাংশ।
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ২১ থেকে ৩৭ ডলারের মধ্যে ছিল। তবে রুট ও ট্যাংকারের ধরন অনুযায়ী ভাড়ায় পার্থক্য রয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়ায় তেল পরিবহনের ভাড়া ছিল ৩৭ ডলারের বেশি। একই এলাকা থেকে সিঙ্গাপুরে পরিবহনে খরচ পড়েছে ব্যারেলপ্রতি ৩৬ ডলার। আর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহনের ভাড়া ছিল ২৬ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ট্যাংকারে হামলা ও যুদ্ধঝুঁকির কারণে পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি তেলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অয়েলপ্রাইস জানিয়েছে, বুলগেরিয়ায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে তেল পরিবহনকারী জাহাজের বীমা ব্যয় গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আগে একটি জাহাজের বীমা করতে যেখানে প্রায় ২ লাখ ডলার খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ২৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জাহাজপ্রতি বীমা ব্যয় আগের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ গুণ বেড়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও অস্থিরতা কাটেনি। গতকাল রবিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১৩ দশমিক ৪৩ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ১০৪ দশমিক ১২ ডলার।
গত এক বছরের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৭০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
গত অক্টোবরে গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি বেড়ে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকির কারণে ব্যারেলপ্রতি অতিরিক্ত ৭ ডলার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ৪ ডলার এবং ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের জন্য আরও ৪ ডলার খরচ হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে বেশি সময় লাগছে। ফলে ট্যাংকারগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে। এতে নতুন করে তেল পরিবহনের জন্য বাজারে ট্যাংকারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে তেল পরিশোধনাগারগুলোর (রিফাইনারি) সরবরাহ ব্যয়েও।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ২১ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩৭ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই ভাড়া পাঁচ গুণেরও বেশি।
একই সময়ে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ২২ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা সংঘাতের আগের তুলনায় চার গুণের বেশি। অন্যদিকে উত্তর সাগর অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়ে তিন গুণ হয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলারের বেশি হয়েছে।
সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডটকম