EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা স্থায়ীভাবে খারিজ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলায় ট্রাম্প ‘খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক গেইলস

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২০ এএম

ট্রাম্পের ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা স্থায়ীভাবে খারিজ
অ অ

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও এর মালিক রুপার্ট মারডকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা স্থায়ীভাবে খারিজ করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। মানহানির অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ড্যারিন গেইলস এ রায় দেন। তিনি বলেন, মানহানির মামলা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রকৃত অসৎ উদ্দেশ্য’ (অ্যাকচুয়াল ম্যালিস) প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, মানহানির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো বক্তব্য মিথ্যা জেনেও প্রকাশ করেছেন অথবা বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেপরোয়া অবহেলা করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলায় ট্রাম্প ‘খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক গেইলস।

রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, সংশোধিত অভিযোগপত্রে প্রকৃত অসৎ উদ্দেশ্যের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। বরং অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগগুলো অস্পষ্ট, প্রমাণহীন এবং কখনো কখনো সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই অভিযুক্তরা প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে জানতেন কি না, সেই প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

এমনকি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ত্রুটি দেখাতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা কৃত্রিমভাবে দুর্বলতা তৈরির চেষ্টা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।


জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে মামলাটির সূত্রপাত।

২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২০০৩ সালে এপস্টেইনের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তার একটি সংকলন তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পের নামে একটি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিতর্কিত ব্রিটিশ সমাজকর্মী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ওই শুভেচ্ছাবার্তাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। এপস্টেইনের যৌন পাচার চক্রে জড়িত থাকার দায়ে বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি।

ট্রাম্পের নামে প্রকাশিত ওই চিঠিতে টাইপ করা লেখার চারপাশে হাতে আঁকা এক নারীর শরীরের অবয়ব ছিল। ছবিটির নিচের দিকে, নারীর শ্রোণি অঞ্চলের কাছে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে চিঠির লেখা, স্বাক্ষর ও ছবি আঁকার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। পরে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির মাধ্যমে জন্মদিনের চিঠিটির একটি অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়, যখন এপস্টেইনের কথিত যৌন অপরাধসংক্রান্ত নথি গোপন রাখার অভিযোগে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এসব নথি প্রকাশ না করার অভিযোগ ওঠে।

এপস্টেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সমালোচকেরা। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে। রাজনীতি, শিক্ষাঙ্গন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল এপস্টেইনের।

২০২৫ সালে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে নারী কর্মীদের ‘চুরি’ করার কারণে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন