EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলা ও ধর্মান্তরের চাপ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলা ও ধর্মান্তরের চাপ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর একের পর এক হামলা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এই প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’-এর তথ্যের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে রাজ্যের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৬০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায়। সেখানে পার্বতী হেমব্রম সোরেন নামে এক নারী অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে সপরিবারে প্রার্থনার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) পরিচয় দিয়ে ৩০ জনেরও বেশি মদ্যপ ব্যক্তি তাদের বাড়িতে চড়াও হয়।

হামলাকারীরা নারীদের মারধর করে, আরাধনার স্থান পুড়িয়ে দেয় এবং ফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া তাদের বাড়ি প্রাঙ্গণে জোর করে তুলসি মঞ্চ ও মন্দির তৈরিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।

হিন্দু ধর্মে না ফিরলে বিদ্যুৎ-জলের সংযোগ কেটে দেওয়া, সরকারি রেশন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা এবং গ্রামে কাজ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে পরিবারটি বর্তমানে ঘরছাড়া।

এর কিছুদিন আগে, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনাতেও বজরং দলের বিরুদ্ধে একই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সেখানকার এক খ্রিস্টান নারী জানান, বজরং দলের সদস্যরা তাদের মারধর করে এবং তাকে সবার সামনে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ‘শুদ্ধিকরণ’ স্নান করায়।

পরবর্তীতে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পূজামণ্ডপে নিয়ে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করা হয়।

উভয় ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী ও ‘বঙ্গীয় খ্রিষ্টিয় পরিষেবা’ নামক সংগঠন। পাঁশকুড়া পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেলেও এখনো কোনো পুলিশি অভিযোগ করেনি।

অন্যদিকে, চন্দ্রকোনার ঘটনায় খুনের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ধারায় এফআইআর হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব দেখিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা চন্দ্রনাথ দাস হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা আইন হাতে তুলে নেন না।

তবে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ না করেই স্বীকার করেন যে, পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই খ্রিস্টানদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের বিশেষ অভিযান চলছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো কাউকেই খ্রিস্টান থাকতে না দেওয়া।

আরও পড়ুন