EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

যে কারণে তরুণদের কাছে হারলেন ভুচিচ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

যে কারণে তরুণদের কাছে হারলেন ভুচিচ
অ অ

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন আলেকসান্দার ভুচিচ। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক প্রভাব এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর কাছে আগাম সংসদীয় নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে তাকে।

সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ সার্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ভুচিচের বিরুদ্ধে সরব থাকা তরুণেরা কীভাবে ব্যালটের লড়াইয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই নেতাকে চ্যালেঞ্জ জানালেন।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর কাছে পরাজয় স্বীকার করেন ভুচিচ। এ নির্বাচনে তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

যেভাবে গড়ে উঠল ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’

২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারি দুর্নীতির অভিযোগ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিতে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন।

একপর্যায়ে আন্দোলনটি শুধু প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এটি নির্বাচনী আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সার্বিয়াজুড়ে বড় ধরনের গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়। পরে এ আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নামে একটি নির্বাচনী মঞ্চ গড়ে তোলে।

দুর্নীতি দমন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং নাগরিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় মঞ্চটি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় আন্দোলনটির নেতৃত্ব দেন নোভি সাদের চিকিৎসা অনুষদের অধ্যাপক ইলিয়া স্রদানোভিচ।

আলেকসান্দার ভুচিচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, চিকিৎসক ও শ্রমিকসহ আন্দোলনকারীদের ‘অবরোধকারী’ বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সার্বিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

তবে ভুচিচ ও তার দল এসএনএস তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। ভুচিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে সার্বিয়ার সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পরও মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনকারী কর্মকর্তাদের পদ থেকে সরানো, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করা এবং সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা।

নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর প্রধান প্রার্থী ইলিয়া স্রদানোভিচ বিবিসি সার্বিয়ানকে বলেন, ‘এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে।’

তার মতে, দুর্নীতিবিরোধী এ আন্দোলন সার্বিয়াকে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত করার আশা জাগিয়েছে। আন্দোলনটি দেশজুড়ে সরকারবিরোধী ভোটারদের সমর্থনও পেয়েছে।

সার্বিয়ার এ আন্দোলনের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিবাদ আন্দোলনের মিল রয়েছে। এসব দেশে দুর্নীতি, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে তরুণেরা আন্দোলন করছেন। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সাফল্য দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিগুলো আন্দোলনটি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই দেশটির রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের মুখে ভুচিচ সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগ রয়েছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারতেন না ভুচিচ। তাই ২০১৭ সালে ছেড়ে আসা প্রধানমন্ত্রীর পদে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নিজের দল এসএনএসকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট পদে মেয়াদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও দল এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ওপর ব্যাপক প্রভাব বজায় রেখেছিলেন ভুচিচ।

সার্বিয়ার সাংবাদিক সাফেতা বিসেভাক বলেন, ‘তিনি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যার মধ্যে অল্প কয়েকটি পূরণ করেছিলেন। এরই মধ্যে তিনি রাষ্ট্রের ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিতর্ক

২০১২ সালে আলেকসান্দার ভুচিচ সার্বিয়ার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসার পর দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়। রয়টার্সের উদ্ধৃত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশটির বেকারত্বের হার ২৬ শতাংশ থেকে কমে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৯০ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা ১০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১২ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউরো বা ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে তা বেড়ে রেকর্ড ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছায়, যা প্রায় ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের সমান। এ ছাড়া দেশটিতে আধুনিক মহাসড়কের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নত হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মজুরি বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি ঋণের পরিমাণও সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দুস্কো রাদোসাভলেভিচের মতে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শুধু নাগরিকদের ন্যায্য ক্ষোভকেই কণ্ঠ দিয়েছে।’

ভুচিচের শাসনামল সম্পর্কে রাদোসাভলেভিচের মূল্যায়ন হলো, গত এক দশকে সার্বিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালনের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও মতপ্রকাশের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উগ্র জাতীয়তাবাদ থেকে বাস্তববাদী নেতার ভাবমূর্তি

একসময় উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাস্তববাদী নেতা হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন ভুচিচ। তার নেতৃত্বে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে।

ভুচিচ ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সার্বিয়ার প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলার কথা ছিল।

১৯৭০ সালে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে জন্মগ্রহণ করেন আলেকসান্দার ভুচিচ। তার উচ্চতা প্রায় দুই মিটার বা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি। তিনি বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৩ সালে ভোজিস্লাভ সেসেলজের নেতৃত্বাধীন উগ্র জাতীয়তাবাদী সার্বিয়ান র‍্যাডিক্যাল পার্টিতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

১৯৯০-এর দশকে ভুচিচের রাজনৈতিক বক্তব্যে উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায়। তার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যগুলোর একটি ছিল ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে সার্বিয়ার সংসদে দেওয়া বক্তব্য। স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার নয় দিন পর তিনি বলেছিলেন, ‘একজন সার্বকে হত্যা করলে, আমরা ১০০ জন মুসলমানকে হত্যা করব।’

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় রিপাবলিকা স্রপস্কার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থানগুলোতে ন্যাটোর সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সংসদে বিতর্কের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভুচিচের তৎকালীন রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ভোজিস্লাভ সেসেলজও বলকান যুদ্ধের সময়কার কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। যারা সার্ব নন, তাঁদের ওপর নিপীড়ন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও বিতাড়নের ঘটনায় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট ব্যবস্থাবিষয়ক আপিল চেম্বার তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

ভোজিস্লাভ সেসেলজের ছেলে আলেকসান্দার সেসেলজও রোববারের নির্বাচনে ভুচিচের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী তালিকায় প্রার্থী ছিলেন।

সার্বিয়ান র‍্যাডিক্যাল পার্টির মধ্যে বিভক্তির পর ২০০৮ সালে আলেকসান্দার ভুচিচ ও তোমিস্লাভ নিকোলিচ মিলে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) প্রতিষ্ঠা করেন। নতুন দলটি ইউরোপের মূলধারার রাজনীতির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে।

দীর্ঘদিন ধরে ভুচিচের রাজনৈতিক জীবন অনুসরণ করা সার্বিয়ার সাংবাদিক সাফেতা বিসেভাকের মতে, দলের শুরুর দিকে নিকোলিচের তুলনায় ভুচিচ কম জনপ্রিয় ছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছে নিকোলিচকে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হতো।

বিসেভাক আলজাজিরাকে বলেন, ‘তখন জনপ্রিয়তার দিক থেকে ভুচিচ অনেক পিছিয়ে ছিলেন। মূলত তিনিই নতুন দলটির সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করতেন।’

২০১২ সালে দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধ এবং আগের সরকারগুলোর আমলে সংঘটিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে এসএনএস। ওই সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী মিরোস্লাভ মিসকোভিচ ও তাঁর ছেলে মার্কোকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে আর্থিক অনিয়ম ও কর ফাঁকির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তারা দুজনই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পান।

সাংবাদিক সাফেতা বিসেভাকের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সার্বিয়ার রাজনীতিতে যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা দেশটির ক্ষমতার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। দুর্নীতি দমন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন আন্দোলনটির জন্য বড় পরীক্ষা।

আরও পড়ুন