মক্কায় বাংলাদেশি যুগলের ভিডিও পোস্ট, সৌদির কারাগারে পশ্চিমবঙ্গের যুবক
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের মক্কায় এক বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক যুবক সৌদির কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সাহাবুদ্দিন শেখ নামের ওই যুবক ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। পরিবারের দাবি, মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তিনি জড়িয়ে পড়েন। পরে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটির সময় পাকিস্তানের এক যুবক সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই দৃশ্য ধারণ করেন এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাহাবুদ্দিন গ্রেপ্তার হন বলে তার পরিবারের দাবি। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার অগ্রগতি কিংবা সম্ভাব্য সাজার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাহাবুদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, তিনি প্রায় আট বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন এবং তার পাঠানো অর্থেই সংসার চলত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে থাকায় তাঁরা এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগে ছেলেকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশি যুগলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর প্রকাশের পর ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য, সাহাবুদ্দিনকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এদিকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আখতার। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া, তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কি না এবং মরদেহের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।