EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

সরকারি নীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে লাখো মানুষ রাজপথে, আটক ১৩৫

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ এএম

সরকারি নীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে লাখো মানুষ রাজপথে, আটক ১৩৫

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও সরকারি নীতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন নগরীতে বিক্ষোভের সময় অন্তত ১৩৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগেভাগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ মোকাবিলায় শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন করা হয়।

এর মধ্যেও রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। পুলিশের তথ্যমতে, শুধু প্যারিসেই প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘রাষ্ট্র, পুলিশ ও ফ্যাসিস্টদের পতন হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মার্সেই ও লিওঁ শহরে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। লিওঁতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। নিস শহরেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়।

প্যারিস ছাড়াও মন্টপেলিয়ের, রুয়াঁ ও নিসের মতো শহরের কেন্দ্রস্থলে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ওর্লেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলন ঘিরেও বিক্ষোভ হয়। সেখানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ অংশ নেন।

প্যারিসে কড়া নিরাপত্তা, বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও জাদুঘর

বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও প্যারিসের মূল সমাবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। পুলিশ ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মূল মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। তবে মিছিলের শেষ দিকে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানান, গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের তুলনায় এবার ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগের সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় এবার পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নুনিয়েজের দাবি, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের তৎপরতায় সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েছে।

কড়া নিরাপত্তার কারণে শনিবার প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। লুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে ও প্যারিস অপেরাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আগের সপ্তাহে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও দোকান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।

মিছিলের পথ পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক

প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের পথ নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। পুলিশের নির্দেশে মূল মিছিলের পথ শহরের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে নেওয়া হয়।

পুলিশের যুক্তি, আগের সপ্তাহে যেসব বাণিজ্যিক এলাকায় ভাঙচুর হয়েছিল, সেসব এলাকার কাছ দিয়ে মিছিল গেলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে বামপন্থী রাজনীতিবিদদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে মিছিলের পথ পরিবর্তন করায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং তাঁদের শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। বিক্ষোভকারীদের সংযমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ফ্রান্সের সংকট সমাধানে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন চলবে।

২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল ও ২ মে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন