পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা, বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে হেবরন শহর অবরুদ্ধ করা এবং পুরো পশ্চিম তীরে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নিতে বলেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেবরনের কাছে একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা ও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনার পর পশ্চিম তীরে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার আশঙ্কায় অঞ্চলটির বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্যমতে, হেবরনের বাইরে একটি অস্থায়ী চেকপোস্টে অস্ত্রধারীরা সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা ওই গোলাগুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং তিনজন আহত হন। পরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারী নিহত হন।
ঘটনার পর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে তিনি জানান, হেবরনের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। হামলাকারীদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে অবিলম্বে হেবরন অবরুদ্ধ করতে এবং পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধ কার্যকরের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম তীরে বাড়ছে অবরোধ
পশ্চিম তীরে অবরোধ ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। গত এক মাসে এটি ছিল পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চতুর্থ ঘটনা। এসব বিধিনিষেধের আওতায় ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোকে প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা বিভিন্ন ফটক ও চেকপোস্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি চালক ও বসতি স্থাপনকারীদের জন্য কিছু সড়ক খোলা থাকে।
এদিকে, ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে গাজা ও লেবাননের মতো সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিম তীরে ‘আয়রন ওয়াল’ নামে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই অভিযানের ফলে কয়েকটি শরণার্থীশিবির থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনাকে নেতানিয়াহু সরকার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ব্যবহার করতে পারে। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জোরালো করাও সরকারের একটি লক্ষ্য হতে পারে।
‘পশ্চিম তীরে প্রতিটি দিনই নাটকীয়’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিস নাউয়ের সাবেক পরিচালক ইয়ারিভ ওপেনহাইম বলেন, “পশ্চিম তীরের প্রতিটি দিনই ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি নাটকীয় দিন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে প্রবেশ করছে, বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং পরিস্থিতি অসম্ভব হয়ে উঠেছে।”
এদিকে, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনকে ঘিরেও ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরেক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন কি না, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার তিন বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান