EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

পুলিশি কারণে কয়েক মৃত্যু, জীবনযাত্রার মান হ্রাস, ভঙ্গুর জনসেবার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ

তিউনিসিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ তুঙ্গে

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

তিউনিসিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ তুঙ্গে

ছবি: রয়টার্স

অ অ

পুলিশের হেফাজতে ও পুলিশের কারণে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জেবিনিয়ানায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

মাদক ব্যবসার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর উপকণ্ঠ ইত্তাখামেনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তারা এই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করা এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

তবে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মাদক গিলে ফেলার কারণে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে, টায়ার পোড়ায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং ওই এলাকার ন্যাশনাল গার্ড স্টেশনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সাফাক্স প্রদেশের জেবিনিয়ানায় নিরাপত্তা বাহিনীর তাড়া খেয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভে নামলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়ায়।

তিউনিসিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং টায়ার পোড়ায়, আর পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।

একই সাথে উপকূলীয় শহর সাফাক্সে হৃদরোগে আক্রান্ত এক ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে দায়ী করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সহপাঠীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার অভাব এবং অ্যাম্বুলেন্স আসতে অতিরিক্ত দেরি করার কারণে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সাফাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবারের এই আকস্মিক উত্তেজনা তিউনিসিয়ার গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের সময়েই দেখা দিল। দেশের জীবনযাত্রার মান হ্রাস এবং ভঙ্গুর জনসেবার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় এই বিক্ষোভ আরও ব্যাপক ও সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করার এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। এ বিক্ষোভ তাঁর শাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ গত বুধবার তিউনিসিয়ার একটি সামরিক আদালত ওল্ফা হামদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্য করতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এটি প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন