ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ইলন মাস্ক, পাল্টা হুঁশিয়ারি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম
ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে। এমন পরিকল্পনার জবাবে ডেমোক্র্যাটদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাস্ক।
তিনি বলেছেন, যারা তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করবেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘যে তরবারি দিয়ে আঘাত করবে, সে তরবারির আঘাতেই মরবে।’ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর একটি প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই পোস্টে মাস্ক আরও লেখেন, ‘যারা আমার সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে যে নেপথ্যে থেকে আসলে কে সুতা নাড়াচ্ছে, তা আমি খুঁজে বের করব। শুধু অনুগত পুতুলদের পেছনে না ছুটে সরাসরি আসল মাথার পেছনেই লাগব।’
মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতা। তাঁর মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সরকারি বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পায়। এ ছাড়া তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলারও প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগেও সমালোচিত হয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আনতে অর্থ ও নীতিগত সহায়তা দেন মাস্ক। পরে সরকারি ব্যয় কমানো এবং প্রায় তিন লাখ সরকারি কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের একটি বিতর্কিত প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন তিনি।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে। ফলে মাস্কের কর্মকাণ্ড ও সরকারি চুক্তির সঙ্গে তাঁর স্বার্থের সংঘাতের বিষয়গুলো তদন্তের মুখে পড়তে পারে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাট নেতা জো লোফগ্রেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘মাস্কের স্বার্থের সংঘাত ও সরকারি পদের অপব্যবহারের যে বিশাল তালিকা সামনে এসেছে, তা এক কথায় স্তম্ভিত করার মতো।’
