নির্বাচনে জয় নিয়ে শঙ্কায় নেতানিয়াহু, হারলেও ছাড়বেন না রাজনীতি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার রেডিও নর্থকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে নিজের জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন।
পরবর্তী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে রাজনীতি ছাড়বেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেন, ‘না, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব না।’
সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও আবিগদোর লিবারম্যানের কঠোর সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এই নেতাদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তাদের বাড়িয়ে বলা আসনসংখ্যার হিসাব ধরলেও মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবির সমর্থন ছাড়া গাদি আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন না। ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তাঁদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।’
ভোটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে শত্রুদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অক্ষম একটি দুর্বল সরকার চাইলে আইজেনকোটকে ভোট দেওয়া যেতে পারে।
ইরান ইস্যুতে আইজেনকোটকে আক্রমণ
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কা মোকাবিলায় আইজেনকোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, আইজেনকোট আগে ‘পারমাণবিক ইরানকে মেনে নিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলাকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও আইজেনকোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে এবং দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকির মুখে কোনো আপস করা যাবে না। তাঁর মতে, আইজেনকোট ও তাঁর সহযোগীরা এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ।
রোনেন বারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বললেন নেতানিয়াহু
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বারের দায়ের করা মানহানি মামলা নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। বারের আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
নেতানিয়াহুর দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন, যার কয়েকটি অনলাইনেও পাওয়া যায়। এসব নথিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ করেন, হামলার মাত্র দুই দিন আগেও রোনেন বার এমন একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, যেখানে সুবিধার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, বার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা বলে আসছেন।
তবে সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর এসব অভিযোগের বিষয়ে রোনেন বারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।