জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভে ১৮০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের সিটি হল (নগর ভবন) এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে গেছে। ছবি: সিএনএন
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পাবলিক সার্ভিসের বেহাল দশার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর রাত বাড়ার সাথে সাথে একাধিক শহরে তা ব্যাপক দাঙ্গায় রূপ নেয়।
রয়টার্স ও সিএনএন এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এ সহিংসতায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে প্রায় ১৮০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ফ্রান্সের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার ফ্রান্সের উত্তর থেকে দক্ষিণ—লিঁল, মার্সেই, স্ট্রাসবার্গ এবং বোর্দোসহ বিভিন্ন শহরে একযোগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিভিন্ন পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই ঘটনা ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘‘আমাদের প্রজাতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। যারা সরকারি ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং সিটি হল লুট করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’’
লিমোজ শহরে অবস্থিত ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক সিটি হলে অগ্নিসংযোগ করা হলে ভবনটি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
বোর্দো শহরে মুখোশধারী একদল দাঙ্গাবাজ স্থানীয় প্রিফেক্টের (আঞ্চলিক কর্মকর্তা) বাসভবনে হামলা চালায়। মেয়র থমাস কাজেনাভের তথ্যমতে, বোর্দো শহরে প্রায় ১০০টি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে।
প্যারিসের রাস্তাগুলোতে ভাঙচুর করা দোকানপাট, পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও বাইসাইকেল এবং দেয়ালে দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট করা স্লোগান দাঙ্গার ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে।
রবিবার সকাল থেকে প্যারিসসহ ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে সেনাবাহিনী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহায়তায় ব্যাপক ধর পাকড় অভিযান শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মতে, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের উদাসীনতা তরুণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। গত মাসে সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলোতে স্কুলের নাজুক পরিস্থিতি এবং শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
পরবর্তীতে তা সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে এক গণআন্দোলনে রূপ নেয়।