নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ, অভিজিৎয়ের সন্ধান চায় সিজেপি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আইসা সভাপতি নেহা বোরা। ছবি: এএনআই
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির কনট প্লেসে ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ/আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপি’র ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ শুরুর আগেই দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও নেহা বোরাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে অভিজিৎ দিপকে এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬/১৭০ ধারায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে।
দিপকের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা অজিঙ্কা শিন্ডে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দিপকেকে আটক করার আট ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তিনি কোথায় আছেন তা আমাদের জানানো হচ্ছে না। তাঁকে কোনো আইনজীবী বা দলের সদস্যদের সাথে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ঠিক কী কারণে আটক করা হয়েছে তা-ও অস্পষ্ট।’’
দলীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা মার্চ কর্মসূচির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দিপকের বাড়িতে একটি নোটিশ পাঠিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল করার নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে করোলবাগের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাসা থেকে দিপকেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সিজেপি নেতার দ্বিতীয় দফার আটক করা হলো।
একই দিনে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে পতাকা ওড়ানো কর্মসূচি থেকে আইসা সভানেত্রী নেহা বোরাকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করে পুলিশ। এর আগে গত ১০ অক্টোবরও তাঁকে একবার আটক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও সিজেপির আরও দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে, যাঁরা বর্তমানে পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে রয়েছেন।
কর্মসূচির দিন কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে বিপুল সংখ্যক জনতা ও সমর্থক জমায়েত হলে পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী কনট প্লেস অবরুদ্ধ করে দেয় এবং লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে সমবেত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা চলছে।
