EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

মমতার সুদিনের সঙ্গীরা কোথায়, মুখ খুলছেন না অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মমতার সুদিনের সঙ্গীরা কোথায়, মুখ খুলছেন না অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী

ছবি: আনন্দবাজার

অ অ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নীরব হয়ে গেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকে। একসময় মমতার রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাদের সরব উপস্থিতি ছিল, তাদের অনেকেই এখন নতুন সরকারের আমলে নিজেদের অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না। তবে ব্যতিক্রম কবি জয় গোস্বামী। মমতার প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা অটুট থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। তার সল্টলেকের বাড়িতে শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিজগতের পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হতো। এসব বৈঠকে সংগীতশিল্পী কবীর সুমন, কবি জয় গোস্বামী, চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী, অভিনেত্রী শাঁওলি মিত্র ও নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিরা অংশ নিতেন।

২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর এসব বৈঠক বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালে বিজেপির উত্থানের প্রেক্ষাপটে আবারও বৈঠক শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নীরব শুভাপ্রসন্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শুভাপ্রসন্ন একসময় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে সরব ছিলেন। মমতার আঁকা ছবির প্রদর্শনী আয়োজন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। রাজ্য হেরিটেজ কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন মমতা।

২০২২ সালে মমতাকে বাংলা আকাদেমির সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন শুভাপ্রসন্ন। সমালোচকদের ঈর্ষাকাতর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে নিজেই এসে মমতাকে সংবর্ধনা দিতেন।

তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে শুভাপ্রসন্নকে আর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি। আনন্দবাজার অনলাইনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর স্ত্রী ও শিল্পী শিপ্রা ভট্টাচার্য জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুভাপ্রসন্ন কোনো মন্তব্য করতে চান না।

যোগাযোগ করা যাচ্ছে না যোগেন চৌধুরীর সঙ্গেও

মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আরেক চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীও সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে আসেননি। মমতা তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতি ছিল।

তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৮ বছর বয়সী এই শিল্পী অসুস্থ এবং বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় কারও সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন না। ফলে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

মমতার সমালোচকও কবীর সুমন

সংগীতশিল্পী কবীর সুমনের সঙ্গে মমতার সম্পর্কের নানা উত্থান-পতন ছিল। একসময় ঘনিষ্ঠতা, পরে দূরত্ব এবং আবার সম্পর্কের উন্নতি—বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের সম্পর্ক আলোচনায় এসেছে। মমতার সামাজিক প্রকল্পের প্রশংসা করে একসময় কবীর সুমন বলেছিলেন, ৩০০ বছর পর মমতার মন্দির হবে।

তবে মমতার শাসনামলের সমালোচনাও করেছেন তিনি। তাঁর মতে, কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মমতা সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হতে চান না এবং কোনো অবস্থাতেই বিজেপিতে যোগ দেবেন না।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর অবশ্য স্থানীয় সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ায় বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কবীর সুমন। তাঁর এলাকার একটি বিপজ্জনক গাছ অপসারণ এবং রাস্তা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় কাজ হচ্ছে, রাস্তা পরিষ্কার থাকছে এবং পানি ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে মমতার ১৫ বছরের শাসন এবং নতুন সরকারের কার্যক্রমের সামগ্রিক মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আনন্দবাজার অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘আমার কোনও মতামত নেই।’

মুখ খুলতে চান না আবুল বাশারও

সাহিত্যিক আবুল বাশারও মমতার শাসনামল কিংবা নতুন সরকার নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মমতার সঙ্গে তাঁকে দেখা গেছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে তাঁকে আর মমতার ঘনিষ্ঠ পরিসরে দেখা যায়নি।

আনন্দবাজার অনলাইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

মমতার প্রতি ভালোবাসা অটুট জয় গোস্বামীর

অন্যদের তুলনায় ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন কবি জয় গোস্বামী। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকেই মমতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা। একসময় মমতার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছিলেন, এমন মানবিক মুখ্যমন্ত্রী তিনি দেখেননি।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতার পাশে তাঁকে আগের মতো দেখা না গেলেও তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন জয় গোস্বামী।

আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁর পুরোনো বক্তব্য থেকে তিনি সরে আসছেন না। মমতার বর্তমান দুরবস্থা তাঁকে কষ্ট দেয় বলেও জানান তিনি।

জয় গোস্বামীর মতে, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের উচিত নিজের উদ্যোগে সমালোচনা ও নেতিবাচক মতামত শোনা। কারণ, তাঁদের চারপাশের লোকজন সাধারণত ইতিবাচক কথাই বলেন। এতে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তবতা ও মাটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

মমতার প্রতি নিজের অনুভূতি জানিয়ে জয় গোস্বামী বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মমতার প্রতি ভালোবাসা আমার অটুট। তাঁর দুরবস্থায় আমি কষ্ট পাই। কারা তাঁকে ঘিরে ধরল!’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক পালাবদলের পর মমতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের অনেকে নীরব থাকলেও জয় গোস্বামী তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্যে মমতার প্রতি অনুরাগের পাশাপাশি ক্ষমতাকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন