যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে ঢুকে বন্দুকধারীর গুলি, শিশুসহ নিহত ৯
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে একটি বাড়িতে বন্দুকধারীর হামলায় শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীরও মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর পর ভেতরে ঢুকে হামলা চালান ওই ব্যক্তি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে গুলির শব্দ শুনে পুলিশ ওই বাড়িতে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান, এক বন্দুকধারীকে বাড়ির বাইরে গুলি চালাতে দেখেছেন তাঁরা। পরে ওই ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রাস্তায় দুই নারীর মরদেহ দেখতে পায়। তাদের দুজনেরই গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল। এরপর বাড়িটি ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশ ও বিশেষ কৌশলগত দল। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরে পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আরও সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন হামলাকারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, নিজের ছোড়া গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ। তিনি বলেন, তার দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর একটি এটি।
লোরাহ বলেন, প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক হলেও সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হুমকি নেই।
তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি তাদের সমবেদনা রয়েছে। প্রাণহানির নির্মমতা প্রকাশের মতো কোনো শব্দ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ শনিবার জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
এদিকে, এরি শহর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।
বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ উল্লেখ করে শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলার আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।