পাকিস্তানে কেন প্রদেশ ভাগের পরিকল্পনা আসিম মুনিরের?
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
প্রশাসনিক সুবিধার্থে চার প্রদেশকে ছোট অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে পাকিস্তানে। তবে এর পেছনে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কৌশল থাকতে পারে বলে মনে করেন বিষেজ্ঞরা।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রশাসনিক কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের চার প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাঞ্জাব, যেখানে ১২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বাস করেন। এটি মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম জনবসতি বেলুচিস্তানে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬ শতাংশ।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মনে করেন, প্রদেশগুলো আয়তনে বড় হওয়ায় শাসন পরিচালনা কঠিন হচ্ছে। এই প্রশাসনিক দুর্বলতাই দেশের বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে মূল কারণ সেনাবাহিনীর রাজনীতি ও ব্যবসায় অতিরিক্ত প্রভাব।
দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি এখনো দুই অঙ্কের ঘরে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ভারতের অর্ধেকেরও কম। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। তারা দেশের বিপুল জমির মালিক এবং নানা লাভজনক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। সামরিক বাহিনীর এই আধিপত্য সাধারণ ব্যবসার প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করছে।
স্বাধীনতার পর থেকে দুই-পঞ্চমাংশের বেশি সময় পাকিস্তান সরাসরি সামরিক শাসনে ছিল। বাকি সময়ে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও সামরিক হস্তক্ষেপে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের কারণে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়লেও তা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিকাশকে থামিয়ে দিয়েছে।
দ্য ইকোনমিস্ট আরও জানায়, বড় প্রদেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখে। পাঞ্জাবে পিএমএল-এন এবং সিন্ধুতে পিপিপির শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় প্রদেশগুলো ছোট করা হলে এসব বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র দুর্বল হয়ে পড়বে।
ফলে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হওয়ার বদলে সেনাপ্রধানের হাতেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অবশ্য এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।