দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে মমতা-কেজরিওয়ালসহ আটক পাঁচ হাজার
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ছবি দ্য হিন্দু থেকে নেওয়া
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিজুড়ে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, ছাত্রনেতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) জানিয়েছে, সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এরপরও বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া অব্যাহত রয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দিল্লিজুড়ে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত একটা থেকেই বিক্ষোভকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। তবে তাদের ঠেকাতে পুলিশ সক্রিয় ছিল। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া বাসগুলোতে এবং দিল্লির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

শনিবার সকালে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে। আটক করা হয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও। জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও ইনফ্লুয়েন্সার কাব্য কর্ণাটককেও আটক করা হয়েছে।
সিজেপির প্রথম সারির বেশির ভাগ নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিং।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ ছাড়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকেও আটক করা হয়েছে।
আটক অন্য রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন এমভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাত।
এদিকে মুম্বাইয়ে আটক করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র এবং ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধীকে।
নিরাপত্তায় ২০টি জোন, অস্থায়ী আটক কেন্দ্র
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টি অপারেশনাল জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে নির্দিষ্ট আটককেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের বিভিন্ন স্টেডিয়ামকেও অস্থায়ী আটককেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। আটক বিক্ষোভকারীদের এসব কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।