বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য হামলা চালানো হতে পারে
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৪৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে।
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বাড়ে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) নির্দেশ দিয়েছে। তবে হামলার নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য হামলা চালানো হতে পারে। এ অভিযানে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির বিকল্প জাহাজ চলাচলের পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি দাবি করেছেন, কৌশলগত এই প্রণালির ওপর ইরানি বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরানের ‘বৈধ দাবি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
তেলের বাজারে চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া। ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের প্রভাবে ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তেল ও গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রেখেছে।
মার্কিন মেরিন মিনারেলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এটি মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ।
শেল পাঁচটি স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ করেছে। শেভরনও চারটি অফশোর স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাড়লে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, অ্যাক্সিওস
-6ac75bd30ec1e.jpg)