ইসলামপন্থীরা ফ্রান্সকে দখলে নিতে চায়: ট্রাম্প
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে চলমান ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভের পেছনে ‘লাগামহীন গণঅভিবাসন’ ও ইসলামপন্থীদের দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এটি শিক্ষা নিয়ে আন্দোলন নয়; বরং ইসলামপন্থীরা একসময়কার মহান ফ্রান্সকে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। খবর পলিটিকো ও আনাদোলু এজেন্সির।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা ‘লাগামহীন গণঅভিবাসনের’ ফল। তাঁর ভাষায়, ‘এটা স্কুল নিয়ে নয়, এটা হলো একদা মহান একটি দেশকে ইসলাম দখলে নিতে চাচ্ছে।’
তবে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে অভিবাসন বা ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। স্কুলের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতে অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে কয়েকশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়। পরে কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
বেশিরভাগ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন এবং আরেকজনের এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর এর জবাব দিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো। তিনি বলেন, ফ্রান্সের ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা নিজেদেরই দিতে হবে; অন্যদের তৈরি করা বয়ান মেনে নেওয়া উচিত নয়।
বারো বলেন, ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিপক্ষ ও মিত্র—সবাই চলমান আন্দোলনকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যদি নিজেদের গল্প নিজেরা না লিখি, অন্যরা তা আমাদের হয়ে লিখবে।’
এদিকে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।
আন্দোলকারীদের দাবি, কয়েক দশকের মধ্যে এটি ফ্রান্সের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তাঁর সমর্থকেরাও সামাজিক মাধ্যমে ফ্রান্সের বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
