চীনের হুমকির মুখে তাইওয়ানের হাতে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মধ্যে প্রথম চালানের দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান পেয়েছে তাইওয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০১৯ সালে করা ৮০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় মোট ৬৬টি নতুন যুদ্ধবিমান পাওয়ার কথা দেশটির। এর মধ্যে প্রথম দুটি যুদ্ধবিমান শুক্রবার তাইওয়ানে পৌঁছেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমান দুটি তাইওয়ানের পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুংয়ের চিহ্যাং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এসব যুদ্ধবিমান যুক্ত করছে তাইওয়ান।
সফটওয়্যার সমস্যার কারণে যুদ্ধবিমান দুটির সরবরাহ কয়েক মাস পিছিয়ে যায়। অবশেষে সেগুলো তাইওয়ানে পৌঁছাল।
চীনের সামরিক বিমানগুলোর ওপর নজর রাখতে তাইওয়ানের বিমানবাহিনীকে প্রায় প্রতিদিনই আকাশে টহল দিতে হয়। নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে চীন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। চীনের সামরিক চাপও বাড়ছে।
তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে দেরি হওয়ায় এর আগে অসন্তোষ জানিয়েছিল তাইওয়ান।
নতুন যুদ্ধবিমান সরবরাহের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যার এক সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় ওয়াশিংটন অঙ্গীকারবদ্ধ। এর মধ্যে তাইওয়ানও রয়েছে বলে জানান তিনি।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ফেসবুকে লিখেছেন, এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান পাওয়া তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এ সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
তাইপের সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, আরও নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শিগগিরই তাইওয়ানে আসবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
২০১৯ সালে তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের তৈরি ৮০০ কোটি ডলারের এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে তাইওয়ানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
গত মে মাসে চীনে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের একটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন তিনি।