ইরান ঘিরে আসছে ৩ মার্কিন রণতরী ও ২০০০ মেরিনার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি: ইরানকে ঘিরে রাখতে ৩ রণতরী ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে রাখতে ৩ রণতরী ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। নভেম্বরের মধ্যে এই মোতায়েন প্রক্রিয়া শেষ হবে।
এক শীর্ষ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের চারপাশে তিনটি যুদ্ধজাহাজ (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) এবং দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন করা হচ্ছে। রুজভেল্ট স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ২,০০০ নৌ সেনা (মেরিন) সহ মেকিন আইল্যান্ড ফোর্স সান ডিয়েগো ত্যাগ করেছে।
তিনি জানান, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন থাকবে। এর ফলে বছরের শেষ নাগাদ ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে যে, ২৫ লক্ষ ব্যারেল তেলবাহী একটি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমার (প্রজেক্টাইল) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ অভিযানের অধীনে ইরানের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইরান খোদ্রো ও সাইপা’র পাশাপাশি রেল, উৎপাদন এবং ইস্পাত খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
ওই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বলেছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা থেকে কখনো পিছপা হবে না। কারণ তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার সর্বশেষ প্রস্তাবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করছে।
আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কখনোই আলোচনা থেকে পিছপা হইনি এবং কখনো হবও না, যদিও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশকে তিনবার নিশানা (বা লক্ষ্যবস্তু) করেছে।”