২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, নতুন অধ্যায়ে বাগদাদ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২৩ বছরের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এই অধ্যায়ের সমাপ্তিকে দেশের সার্বভৌমত্বের নতুন সূচনা হিসেবে দেখছে বাগদাদ। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ সামরিক জোটের মিশন শেষ করে মার্কিন ও জোটের সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। ২০২৫ সালেই ইরাকের বেশির ভাগ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল; উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় কিছু সেনা অবস্থান করছিলেন।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের মধ্য দিয়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। ২০১১ সালে মার্কিন যুদ্ধ সেনারা ইরাক ছাড়লেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী আবার ইরাকে মোতায়েন হয়।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং আইএসের সম্ভাব্য পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার ইরানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়াতে পারে এবং নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হলে আইএসও তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।
এদিকে ইরাকের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের সব অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সরকারবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে জোর দিয়ে আসছেন। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি সামরিক সহায়তা ছাড়াই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাগদাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে দুই দেশের সম্পর্ক অর্থনীতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ।
