বাদশাহর সিদ্ধান্তে ইতিহাস, মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পেয়েছেন একজন নারী। দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে আরব বিশ্বে দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন তিনি। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে ফাতিমার দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পাম) ৯৭টি আসন পেয়ে সর্বাধিক আসন অর্জন করে। নির্বাচনের পর দলটির নেতা ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
৫০ বছর বয়সী ফাতিমা পেশায় একজন আইনজীবী। মরক্কোর মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট আইনে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন। পরে দেশটির নগর পরিকল্পনা ও আবাসনবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনীতিতে নারীদের অধিকার ও উত্তরাধিকার আইনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ফাতিমা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে তিনি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর আগে এক বক্তব্যে তিনি বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদকে নারীদের অন্যতম বড় সমর্থক হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে নতুন সরকারের সামনে রয়েছে জোট গঠনের চ্যালেঞ্জ। মরক্কোর সংসদের মোট ৩৯৫টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। সেখানে পাম পেয়েছে ৯৭টি আসন। ফলে সরকার গঠনে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হবে দলটিকে।
বিদায়ী ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (পিজেডি) বিরোধী দলে থাকার ঘোষণার কারণে নতুন জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ফাতিমার নেতৃত্বে নতুন সরকার কীভাবে জোট গঠন করে এবং দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সবার।
